গত ১১ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের নিরাপত্তা কর্মকর্তা এ কে এম সুফিউল আনাম ইয়েমেনে অপহৃত হন। নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসাবে কর্মরত সুফিউলকে উদ্ধার করার জন্য জাতিসংঘ অপহরণকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। এরপর গত তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশি নাগরিক সুফিউলের মুক্তির অগ্রগতির বিষয়ে কিছুই জানে না তার পরিবার।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, সুফিউল বাংলাদেশি। তার বিষয়ে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি জাতিসংঘের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।
জাতিসংঘ তার মুক্তির জন্য আলোচনা করছে জানিয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, তাদের কাছ থেকে আমরা খুব বেশি তথ্য পাচ্ছি- বিষয়টি সেরকম নয়।
অপহরণকারীরা মুক্তিপণ দাবি করেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার জানা নেই।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ২৫ বছরের বেশি এবং জাতিসংঘে ১৭ বছরের বেশি সময় ধরে কর্মরত ছিলেন সুফিউল। এ বছরই তার অবসরে যাওয়ার কথা ছিল।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুফিউলের এক আত্মীয় বলেন, প্রতিটি দিন আমাদের জন্য একেকটি বছর। আমরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। অপেক্ষা করছি কবে তিনি ফিরে আসবেন।
ওই আত্মীয় বলেন, হুথি বিদ্রোহী, নাকি আল কায়েদা, নাকি ছোট কোনও উপজাতি সুফিউলকে অপহরণ করেছে আমরা কিছুই জানি না। এছাড়া এখন ইয়েমেনে সে অর্থে কোনও সরকার নেই যাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করা যায়।
উল্লেখ্য গত আট বছর ধরে ইয়েমেনে যুদ্ধ চলছে। ২০১৪ সালে হুথি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা আক্রমণ করলে পালিয়ে যান তৎকালীন প্রেডিসডেন্ট আবদ-রাব্বু মানসুর হাদি। ২০১৫ সালে হাদি সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় বসানোর জন্য সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত একসঙ্গে দেশটিতে হস্তক্ষেপ করে।
দেশটির বিভিন্ন বিবদমান পক্ষের ওপর আঞ্চলিক এক বা একাধিক দেশের প্রভাব আছে জানিয়ে ওই আত্মীয় বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ওই দেশগুলোর অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার আগের যেকোনও সময়ের থেকে কূটনৈতিকভাবে ভালো অবস্থানে আছে। ঢাকা যদি ওই দেশের সরকারগুলোকে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপের জন্য অনুরোধ করে তবে বিষয়টি দ্রুত সমাধান হতে পারে।
জীবনের বড় একটি অংশ তিনি দেশের জন্য কাজ করেছেন সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকার সময়ে। এখন তার বিপদে দেশ এগিয়ে আসবে এমনটি প্রত্যাশা করে সুফিউলের পরিবার।