জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চিরায়ত পররাষ্ট্রনীতি ‘ফ্রেন্ডশিপ টু অল, ম্যালাইস টু নান (সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়)’ বর্তমান সংঘাতপূর্ণ বিশ্ব পরিস্থিতিতে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তাঁর পররাষ্ট্রনীতি আজও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আদর্শ, বৈদেশিক সম্পর্ক নিরূপণের আলোকবর্তিকা।
বৃহস্পতিবার স্পেনের মাদ্রিদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে ‘ইউনিভার্সিটি অব সান্তিয়াগো দে কম্পোস্তেলা'য় আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এমন মত দেন। বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘বঙ্গবন্ধু অ্যান্ড বাংলাদেশ গেটিং ক্লোজার টু স্পেইন’ শীর্ষক সেমিনারটি আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সেমিনারে স্পেন, এন্ডোরা ও ইকুয়েটরিয়াল গিনিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সারোয়ার মাহমুদ বঙ্গবন্ধু সরকারের অসাধারণ কূটনৈতিক সাফল্যের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু মানবতাবাদী পৃথিবীর বজ্রস্বর, বাংলাদেশ ও বাঙালির গর্বের আইকন এবং সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদ-বিরোধী বিশ্বমানবতার উজ্জ্বল বাতিঘর।’
উল্লেখ্য, স্বাধীনতার পরপরই যে ক'টি দেশ বাংলাদেশকে কূটনৈতিক স্বীকৃতি প্রদান করেছিল স্পেন তার অন্যতম। স্পেন বাংলাদেশের চতুর্থ বৃহত্তম রফতানি-অংশীদার। স্পেনে অবস্থানরত ৬০ হাজারেরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি দুই দেশের অর্থনীতিতে অবদান রেখে চলেছেন।
অর্থনৈতিক কূটনীতি ও জনকূটনীতির ক্ষেত্রে মাদ্রিদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃক গৃহীত ব্যাপক উদ্যোগের ওপর আলোকপাত করেন রাষ্ট্রদূত। তিনি বাংলাদেশের বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে অবারিত বিনিয়োগ সম্ভাবনা ও সরকার ঘোষিত বিবিধ প্রণোদনার সুযোগ গ্রহণের জন্য স্পেনীয় উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বরেণ্য ইতিহাসবিদ, বিদগ্ধজন ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ প্রফেশনালস এর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব চেয়ার এর চেয়ার ডক্টর সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। এর প্রতিপাদ্য ছিল বাঙালির ইতিহাস, জাতি বিনির্মাণ ও জাতীয় মুক্তিসংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর অনন্য নেতৃত্ব।
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন ইউনিভার্সিটি অব সান্তিয়াগো দে কম্পোস্তেলার রেক্ট-র প্রফেসর ড. অ্যান্তনিও লোপেজ, বাংলাদেশে নিযুক্ত স্পেনের প্রথম রাষ্ট্রদূত আর্তুরো পেরেজ মার্টিনেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনডিটেক্স চেয়ার অব স্প্যানিশ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কালচার প্রফেসর ড. সান্তিয়াগো ফার্নান্দেজ মসকুয়েরা এবং স্পেনের ইউনিভার্সিটি অব করুনা-র প্রফেসর ড. পিলার গার্সিয়া দে লা টোরিটোরি।