১৯৭২ সালে প্রকাশিত সংবাদপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, ১৭ মার্চ দিনটিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এসেছিলেন বাংলাদেশ সফরে। তার উপস্থিতিতে সারাদিনই রাজনৈতিক কাজে ব্যস্ত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তবে এরই মাঝে স্বজন, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গেও কিছুটা সময় কাটান তিনি।
প্রতিবেশি দেশের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বঙ্গবন্ধুর জন্য ভারত থেকে সেদিন ফল আর মিষ্টি উপহার এনেছিলেন। দৈনিক বাংলার ১৮ মার্চের পত্রিকা বলছে, বঙ্গবন্ধুর ৫৩তম জন্মবার্ষিকী পালন হয় সে বছর। প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বঙ্গবন্ধুকে ফল ও মিষ্টি উপহার দেন। সেগুলো তিনি ভারত থেকেই এনেছিলেন কোটি মানুষের শুভেচ্ছা, বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের নিদর্শন হিসেবে।
শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী বিশেষ বিমানযোগে সেদিন সাড়ে ১০টায় ঢাকায় আসেন। ১০টা ৫৫ মিনিটে তিনি হেলিকপ্টারযোগে বঙ্গভবন যান। ইন্দিরা বিকাল ৩টা ৩৫ মিনিটে মঞ্চে আরোহণ করেন। শেখ মুজিবুর রহমান ৩টা ৪৩ মিনিটে তার ভাষণ শুরু করেন। শেষ করে ৩টা ৫৭ মিনিটে। আর অতিথি ইন্দিরা গান্ধী বিকাল ৪টায় বক্তৃতা শুরু করে ৪টা ৩৩ মিনিটে বক্তৃতা শেষ করেন। সেদিন তিনি ‘জয় বাংলা‘ স্লোগান দিয়ে বাংলায় বক্তৃতা শুরু করেন। এইদিন বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব প্রথম সরকারি অনুষ্ঠানে ঘরের বাইরে আসেন।
শুরুতে সেদিন ইন্দিরা গান্ধী বলেন, বাংলাদেশের জনগণ যে সাহস ও দৃঢ় মনোবল নিয়ে দুর্দশা মোকাবিলা করেছে সেজন্য দেশবাসীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের জন্য আমি এসেছি। আজকের দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ও সুখের দিন বটে। কারণ আজ শেখ মুজিবের জন্মদিন। তিনি এদেশের মুক্তিদাতা। আমি তার দীর্ঘায়ু কামনা করি কামনা করি। তিনি দেশকে সঠিক পথে পরিচালনা করুন।