কেসিসির প্রকল্পের কাজ আওয়ামী ঠিকাদারদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা!

খুলনা সিটি কর্পোরেশন

খুলনা সিটি কর্পোরেশনে (কেসিসি) প্রায় ৮ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘অ্যাসফল্ট প্লান্ট স্থাপন’ প্রকল্পের কাজ আওয়ামী লীগ সমর্থিত ঠিকাদারদের মধ্যে ‘ভাগ বাটোয়ারার’ অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার দরপত্র জমার শেষদিনে এ অভিযোগ করেন সাধারণ ঠিকাদারদের অনেকে।

নাম না প্রকাশের শর্তে একাধিক ঠিকাদার বলেন, বৃহস্পতিবার খুলনা সদর থানা ও সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ নেতা ও তাদের অনুসারীরা সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নগরভবনে সশস্ত্র অবস্থায় পাহারা দেয়। ফলে আগের দুইবারের মতো এবারও কেসিসির অ্যাসফল্ট প্লান্টের ৮ কোটি ২০ লাখ টাকার প্রকল্পের দরপত্র জমা দিতে পারেননি সাধারণ ঠিকাদাররা। আওয়ামী সমর্থিত প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের ভেতর কাজ ভাগ বাটোয়ারা করতে চায়। 

প্রকল্প পরিচালকের দপ্তর সূত্র জানায়, ৬ জানুয়ারি  তৃতীয়বারের মতো প্রকল্পের পুনঃদরপত্র আহ্বান করা হয়। পাঁচটি দরপত্র বিক্রি হয়। বৃহস্পতিবার দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে সরকার কবির আহমেদ, মেসার্স বেলাল এন্ড ব্রাদার্স এবং এম শহিদুল ইসলাম সেনাকল্যাণ সংস্থা— এই তিন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দরপত্র জমা পড়ে।

সাধারণ ঠিকাদাররা অভিযোগ করেন কতিপয় কর্মকর্তার সুপারিশে আওয়ামী লীগ নেতার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার চেষ্টায় দরপত্রের শর্ত শিথিল করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক ও কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল আজিজ বলেন, আট কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ের (নতুন দরপত্রে) অ্যাসফল্ট প্লান্ট স্থাপন ও একই প্রকার আরও কাজের জন্য চাওয়া অভিজ্ঞতার সীমা হ্রাস করা হয়েছে। নতুন শর্তে যদি কোনও ঠিকাদারের যন্ত্রপাতি সরবরাহের অভিজ্ঞতা থাকে তাহলে তাদের কাজ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

তিনি জানান, দাখিলের শেষ দিনে তিনটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দিয়েছে। সিন্ডিকেট গঠন বা দরপত্র জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কারও কোনও বাধা পাওয়ার অভিযোগ তিনি পাননি।

উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে দুইবার দরপত্র আহ্বান করা হয়। দুইবারই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে ‘একটি অযোগ্য প্রতিষ্ঠানকে’ কাজটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে খবর প্রকাশিত হলে দরপত্র বাতিল করে কেসিসি।

প্রথমবার দরপত্র আহ্বানের বিপরীতে ৬টি ও দ্বিতীয়বারে ৪টি দরপত্র জমা পড়েছিল।

/এইচকে/