বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রফতানি বাজার যুক্তরাষ্ট্র। আবার উত্তর আমেরিকার দেশটি এ দেশে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী। দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক যেমন গভীর আবার কিছু বিষয় নিয়ে ভিন্নমত ও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এ বিষয়গুলো নিয়ে আগামী মাসে দুই দেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন।
বুধবার (১৮ মে) নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে বৈঠকের পরে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, সামনের মাসে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের অর্থনৈতিক সংলাপের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র তাদের মতো করে প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি বলেন, তারা যেসব সমস্যা চিহ্নিত করেছে, বিশেষ করে শ্রম বিষয় বা ট্রেড ইউনিয়ন নিয়ে, সেগুলো হয়তো আলোচনা করা হবে।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, আমাদের প্রস্তুতি চলছে। আমরা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সঙ্গেও এ বিষয়ে কাজ করছি। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা সঙ্গেও কাজ করছি, একটা রোডম্যাপও দিয়েছি।
তিনি বলেন, আমাদের কিছু প্রতিশ্রুতি আছে। সেগুলো আমরা ২০২৩-এর ভিতরে বাস্তবায়নের কাজ করছি। বিভিন্ন দেশ যেসব বিষয় উত্থাপন করে, আমরা যদি অনুধাবন করি যে বাংলাদেশের কিছু করণীয় রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে বাস্তবতার আলোকে কাজ করা হয়।
শ্রম অধিকার বিষয়ে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেই আলোচনা হয় না, এখানে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গেও সরকার আলোচনা করে। কারণ, সবাই একই ধরনের উদ্বেগ বা পর্যবেক্ষণ করে বলে তিনি জানান।
তাদের আপত্তির জায়গার বিষয়ে মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ট্রেড ইউনিয়ন বা সংগঠন করার অধিকার বা ভীতি প্রদর্শন এগুলো তাদের অভিযোগ। কিন্তু এর সবগুলোর সঙ্গেই যে আমরা একমত বিষয়টি সে রকম নয়।
উচ্চ পর্যায়ের অর্থনৈতিক সংলাপে কী এজেন্ডা থাকবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমদের ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন ইস্যু রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের বিষয় রয়েছে। আমাদের রফতানি রয়েছে। এ ধরনের সব প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
সরকারের মেকানিজম
সরকারের সচিব পর্যায়ের একটি মেকানিজম আছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা বিভিন্ন সময় আমাদের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করি। যেসব বাণিজ্যিক বিষয়গুলো ঠিক করার প্রয়োজন রয়েছে সেগুলো আমরা করছি। পাঁচটি মন্ত্রণালয়, যেমন- শ্রম, বাণিজ্য, স্বরাষ্ট্র, আইন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেকানিজম রয়েছে। যারা বিভিন্ন সমস্যা উত্থাপন করে সেগুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করি। কী করণীয় সেটা ঠিক করি।
তিনি বলেন, বেসরকারি খাতের সঙ্গেও এ বিষয় নিয়ে আমাদের আলোচনা হয়। আমরা চেষ্টা করি তাদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিশ্রুতিগুলো যেন বাস্তবায়ন করা যায়।
কোভিড বাস্তবতা
কোভিডের কারণে আমরা কিছুটা পিছিয়ে গেছি উল্লেখ করে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, যেমন শিল্প ইন্সপেক্টর নিয়োগ পিছিয়ে গেছে। কারণ, পাবলিক সার্ভিস কমিশন বন্ধ ছিল। এখন চেষ্টা করছি যে সময় নষ্ট হয়েছে সেটিকে পুষিয়ে নিতে।
র্যাব নিয়ে আলোচনা হয়নি
র্যাব বা ইউক্রেন নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি জানিয়ে মাসুদ বিন মোমেন বলেন, যে আইনি ব্যবস্থাগুলো রয়েছে সেটি আমরা অনুসন্ধান করে দেখছি। আমরা বেশ কিছু দূর এগিয়ে আছি। র্যাব নিয়ে মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, মামলার কথা বলিনি। এ সংক্রান্ত যে আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে, সেগুলো আমরা যাচাই-বাছাই করছি।