যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে চাপে রাখতে চায় মন্তব্য করে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন অবরোধের ভয় দেখাচ্ছে। তারা র্যাবের ওপর স্যাঙ্কশন (নিষেধাজ্ঞা) দিয়েছে। মানবাধিকারের কথা বলে একটি স্বাধীন দেশের সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের অধিকার তাদের কেউ দেয়নি।
জাতীয় সংসদে পদ্মা সেতু নিয়ে আনা একটি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে মেনন এ কথা বলেন। জাতিকে পদ্মা সেতু উপহার দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাতে এ প্রস্তাব আনা হয়। প্রস্তাবটি সংসদে আনেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী।
আলোচনায় অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। এই সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু করবেন। তখন অনেকে অবাক হয়েছিল। আজ পদ্মা সেতু হয়ে গেছে। অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে, কিন্তু কেউ প্রধানমন্ত্রীকে থামাতে পারেননি।
যারা দুর্নীতির অভিযোগ এনেছিল, পদ্মা সেতু নির্মাণ করে তাদের সমুচিত জবাব দেওয়া হয়েছে— উল্লেখ করেন রাশেদ খান মেনন। দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে বিশ্বব্যাংক ও যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন অবরোধের ভয় দেখাচ্ছে। তারা র্যাবের ওপর স্যাঙ্কশন (নিষেধাজ্ঞা) দিয়েছে। মানবাধিকারের কথা বলে একটি স্বাধীন দেশের সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের অধিকার তাদের কেউ দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে চাপে রাখতে চায়।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা মেনে নিতে হবে জানিয়ে মেনন বলেন, যাদের কখনো রাজনীতি করতে দেখা যায়নি, কথা শুনে মনে হয় স্টেট ডিপার্টমেন্ট তাদের পিছেনে আছেন। সাতদিনের মধ্যে তারা সরকার ফেলে দিতে চায়। অর্থাৎ পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগে সব ঘটনা ঘটাতে হবে।
পদ্মা সেতুকে সক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক এবং অপমানের প্রতিশোধ হিসেবে বর্ণনা করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাংককে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করে প্রমাণ করেছেন, আমরা বীরের জাতি।’
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘কুষ্টিয়ার একজন হিসাবে বলবো পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, আপনি শেখ হাসিনাই পারবেন, আপনার ক্ষমতাকালে। আশা করবো আপনি সেই কাজে হাত দেবেন।’
ইনু বলেন, পদ্মা সেতু সমুদ্র অর্থনীতির সঙ্গে পাহাড়ি অর্থনীতির সংযোগ স্থাপন করবে। এটি শেখ হাসিনার প্রত্যয় দীপ্ত উচ্চারণ, আমরা পারির স্বাক্ষর। আমাদের উঁচু মাথা আরও উঁচু করে দিয়েছে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী বলেন, রাশিয়া, চীন কিংবা আমেরিকা নয়, যেখানে আমাদের স্বার্থ রক্ষা যেখানে হবে সেইভাবে চলতে হবে।
আমেরিকার প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, বাংলাদেশটা আপনারা কি পাইছেন, মৃগয়া? আপনারা ইচ্ছামতো শিকার করবেন এখানে? আর গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে বার বার ব্যাহত করবেন। বিভিন্ন সামরিক শাসকদের সহায়তা করবেন। বিভিন্ন রাষ্ট্রনায়ককে হত্যা করবেন, শুধু বাংলাদেশ না, সারা পৃথিবীজুড়ে হত্যাযজ্ঞ চালাবেন। মৃগয়া চলাবেন। তার জন্য বাংলাদেশের মানুষ আত্মসমর্পণ করবে— এই কথা চিন্তা করবেন না, তাহলে বাঙালিরে চিনতে ভুল করছেন।
তিনি বলেন, আপনারা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে দেশপ্রেমিক, দেশের জনপ্রিয় রাষ্ট্রনায়কদের হত্যা, ক্যু, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে যেভাবে ক্ষমতাচ্যুত করেন। এই কলঙ্কিত রেকর্ডকে একটু হলেও হোয়াইটওয়াশ করার চেষ্টা করেন। আমরা আমেরিকার গণতন্ত্রকামী মানুষের বিরুদ্ধে নই।
আমেরিকার স্বেচ্ছাচারিতার কারণে সারা পৃথিবীতে গণতন্ত্র নিঃশ্বাস নিতে চায় বলে আর্তনাদ করে— বলে জানান মতিয়া চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আপনারা সেটা শুনতে পান না। এটাই হলো আপনাদের অন্ধত্ব ও ক্ষমতার দম্ভ।
বিএনপির এমপি রুমিন ফারহানাকে সন্তান সমতুল্য উল্লেখ করে তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী বলেন, বেয়াদবির একটা সীমা আছে। পদ্মা সেতু যখন জাতির গর্ব, যখন আমরা এ সেতুর দিকে তাকিয়ে আছি, তখন এটাকে গোল্ডেন টয়লেট বললো। এটা এক্সপাঞ্জ করা উচিত। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত গোল্ডেন টয়লেটে নিমজ্জিত হয়েছে।
জাতীয় পার্টির আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, “বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির অপবাদ দিয়ে অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছিল। তাদের প্রশ্ন করা উচিত তারা যে ক্ষতি করেছে তা কিভাবে পুষিয়ে দেবে।
তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন, যেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়।