সর্বশেষ নিলাম হয় ২০০৮ সালের ২৩ জুলাই, যেখানে ২১ কেজি ৮২২ গ্রাম সোনা বিক্রি করা হয়। ধরা পড়া সোনার বেশির ভাগই আন্তর্জাতিক মানসম্মত হওয়ায় তা বাইরে বিক্রির প্রয়োজন হয়নি। সোনা চোরাচালান বাড়লেও দীর্ঘ সময় ধরে বিক্রির নিলাম হচ্ছে না। এতে রাজস্ব খাতে কোনো অর্থ এনবিআরের কোষাগারে জমা হচ্ছে না।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, অবৈধভাবে আসা সোনার চালান যেখানেই ধরা পড়–ক, তা জমা করা হয় বাংলাদেশ ব্যাংকে। এ ক্ষেত্রে মালিকবিহীন অবস্থায় ধরা হলে সরাসরি তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্থায়ী খাতে জমা হয়। আর মালিকানার দাবিদার থাকলে আদালতের নির্দেশনার আলোকে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন নিলাম না হলেও স্থায়ী খাত থেকে নগদ টাকা দিয়ে আন্তর্জাতিক মানসম্মত বার কিনে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভে জমা করা হয়। বাকি বার বা অলঙ্কার নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। সব টাকা জমা হয় সরকারি কোষাগারে।
জানা গেছে, আটক সোনা বিক্রি করতে নিলাম ডাকা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও এনবিআরের একজন করে প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত কমিটি এ জন্য নিলাম ডাকে।
শুল্ক বিভাগ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ি, স্বাধীনতার পর থেকে অবৈধ উপায়ে আসা সোনার পরিমাণ প্রায় চার হাজার ৪৮৭ কেজি বা ১১২ মণ। এর মধ্যে প্রায় ৫৭ মণ সোনার মালিকের কোন হদিস পাওয়া যায়নি। এছাড়া মামলায় মালিকানা ঝুলে আছে আরো প্রায় ৩০ মণের। তবে ১৫ কেজি সোনা আদালতের নির্দেশে শুল্ক পরিশোধ সাপেক্ষে মালিক দাবিদারদের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে। আর কিছু বিক্রি করা হয়েছে নিলামের মাধ্যমে।
বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর, ট্যারিফ কমিশন ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে ২০১১ সালে পরিচালিত এক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈধ উপায়ে কোনো সোনা আমদানি হয় না। দুবাই, সিঙ্গাপুরসহ কয়েকটি দেশ থেকে একশ্রেণীর চোরাকারবারির সহায়তায় সোনা এনে তা এখানকার বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। এ অবস্থায় চোরাই সোনা নিলামের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সংশ্লিষ্টরা। এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, এই মুহূর্তে আটক সোনা নিলাম করা হলে এনবিআরের রাজস্ব খাতে প্রায় ৭শ’ কোটি টাকা আয় হবে।
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর সূত্র জানায়, গোপন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে, বহনকারীর সন্দেহজনক আচরণে বা নিরাপত্তার স্বার্থে তল্লাশিতে সাধারণত চোরাই সোনা আটক হয়। তবে এর ব্যতিক্রমও হয় অনেক সময়। জব্দ করা সোনা যত দ্রুত সম্ভব ঢাকা কাস্টমস হাউস এবং চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে জমা রাখা হয়। এরপর পুলিশ পাহারায় তা এক থেকে সাত দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়।
আটক সোনার কোন দাবিদার না থাকলে এবং এ বিষয়ে কাউকে গ্রেফতার করা না হলে এতে কোন মামলা হয় না। এসব সোনা স্থায়ী সোনা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকে রাখা হয়। যেকোনো সময় বাংলাদেশ ব্যাংক তা নিলামে তুলতে পারে।
জানা গেছে, আশির দশকে এই দেশে চোরাচালানের মধ্যমে সোনা আসা শুরু হয়। ১৯৮৫ সালে চোরাচালানের ৯৬ কেজি ৫২৫ গ্রাম সোনা উদ্ধার করা হয়। ১৯৮৬ সালে উদ্ধার হয় ১২০ কেজি ২২৫ গ্রাম সোনা। ২০০৯ সালে শুধু বিমানবন্দরগুলো থেকে ১২ কেজি, ২০১০ সালে ৯ কেজি, ২০১১ সালে ৪ কেজি, ২০১২ সালে ২৪ কেজি, ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত চোরাইপথে আসা প্রায় ২৬ মণ সোনা আটক করেছে শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।
প্রসঙ্গত, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সোনার চারাচালান ধরা পড়ে ২০১৩ সালের জুলাই মাসে। ওই বছরের ২৩ জুলাই নেপাল থেকে আসা একটি বিমান থেকে ১২৪ কেজি ২১৬ গ্রাম সোনা আটক করা হয়। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ চোরাচালানটি ধরা পড়ে ২০১৪ সালের ২৬ এপ্রিল।
/এপিএইচ/আপ-এনএস/