পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তাদের বিচারে ১০ দফা দাবি উত্থাপন নৌমন্ত্রীর

নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে ২০৯ জন পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তা গণহত্যা চালিয়েছিল। কিন্তু তার বিচার আজও হয়নি। তাই যুদ্ধাপরাধীর সংখ্যা যদি দুই হাজারও হয়, তবুও তাদের বিচার করার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান।
বুধবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার আন্দোলন আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দানকালে সরকারকে তিনি এ অনুরোধ জানান।
এ সময় আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার আন্দোলনের আহ্বায়ক সংসদ সদস্য শাজাহান খান জাতীয় সংসদের স্পিকার বরাবর ১০ দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হচ্ছে, ঐ সমস্ত পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তাদের বিচারে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনে কোনও প্রতিবন্ধকতা আছে কিনা তা পুনঃনিরীক্ষা, মানবতা বিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নাগরিকত্ব বাতিলের বিধান করা, জেনোসাইড ডিনায়াল-ল এর আদলে বাংলাদেশের জন্য উপযোগী একটি আইন প্রণয়ন, জামাত ও তার সহযোগী সংগঠন গুলোকে নিষিদ্ধ করা, ৭১ এর ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থা করা উল্লেখ্যযোগ্য।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে জাতীয় সংসদের স্পিকার বরাবর স্মারকলিপি পেশ করতে ১৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল যান। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন নৌ পরিবহন মন্ত্রী ও সংগঠনের আহ্বায়ক শাজাহান খান।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সরকার বাংলাদেশের নিরীহ ৩০ লাখ মানুষের ওপর নারকীয় হত্যাকাণ্ড চালায়। তখন আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু পাকিস্তান সরকার তাদের বিচার করবে, এ চুক্তি করে তারা সেসব সেনাকর্তাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায়। তবে তারা বিচার করেনি। বিচার না করে তারা চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। তাই এখন চুপ না থেকে তাদের বিচারের বিষয়কে আরও গতি দিতে হবে।’

সমাবেশ শেষে পাকিস্তানি দুইশ’ জন যুদ্ধাপরাধীর বিচারের দাবিতে প্রেসক্লাবের সামনে থেকে একটি মিছিল শুরু হয়ে শাহবাগে গিয়ে শেষ হয়।

এ সময় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আব্দুল মান্নান চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা ইসমত কাদির গামা, খুশী কবির প্রমুখ।

/এসআইএস/এপিএইচ/