বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনীর ভেতরে এরা কারা? দেশের শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বিঘ্নিত করতে কারা এই ধরনের জঘন্য কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন। সমগ্র পুলিশ বাহিনীর ইমেজকে ক্ষুণ্ন করছেন।
পীর ফজলুর রহমান এ বিষয়ে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দাবি করেন।
মাগরিবের নামাজের বিরতির পর পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে কেরোসিনের স্টোভে দগ্ধ হয়ে বৃহস্পতিবার মৃত্যুবরণকারী চা বিক্রেতা বাবুল তালুকদারসহ পুলিশের কয়েক সদস্যের সাম্প্রতিক বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে বক্তব্য রাখেন পীর ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় নিজের চায়ের দোকানে কেরোসিনের স্টোভে দগ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি হন বাবুল। আজ দুপুরে তিনি মারা যান।
পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, এই চা দোকানি অগ্নিদগ্ধ হওয়ার পেছনে শাহ আলী থানার কয়েকজন পুলিশ জড়িত। তারা নাকি ওই চায়ের দোকানে গিয়ে তার কাছে চাঁদা দাবি করেন।এ নিয়ে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে স্টোভের কেরোসিন তেল চা দোকানীর গায়ে পড়ে এবং তিনি অগ্নিদগ্ধ হন। তার শরীরের ৯৫ ভাগ পুড়ে যায়।কয়েকটি অনলাইন পত্রিকা ওই ঘটনায় তার পরিবারের সদস্যদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।এতে ঘটনার জন্য সেই থানার কয়েকজন পুলিশকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। একইভাবে গত রবিবারে আদাবর থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে হেনস্তা করেছেন। তার আগে জানুয়ারিতে পুলিশের দুইজন এসআই বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মচারী গোলাম রাব্বী ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কর্মচারী বিকাশ চন্দ্রকে মারধর করেন।
তিনি বলেন, দেশে যখন একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে,রাজনৈতিক পরিবেশ যখন শান্ত,সারা দেশে যখন উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ চলছে,ঠিক সেই মুহূর্তে হঠাৎ করে পুলিশ বাহিনীর ভেতরে কারা এ ধরনের কাজ করছেন? দেশের শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বিঘ্নিত করার জন্য সমগ্র পুলিশ বাহিনীর ইমেজকে ক্ষুণ্ন করতে এই ধরনের জঘন্য কর্মকাণ্ড কারা করছেন? আমি মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দাবি করি। জানতে চাই, পুলিশ বাহিনীর ভেতরে থেকে যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছেন তারা কারা? এরা পুলিশ বাহিনীকে বিপদের মধ্যে ফেলে দিয়েছেন। যারা এসব অপকর্মে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে তিনি কী ব্যবস্থা নিয়েছেন তা জানতে চাই।
পুলিশ বাহিনীর কয়েকজন সদস্যের এসব কর্মকাণ্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, অনলাইন ও সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্নভাবে পুলিশ বাহিনীকে বলা হচ্ছে ‘মাছের রাজা ইলিশ,মানুষের রাজা পুলিশ’।এ সমস্ত কথাবার্তা বলে পুলিশ বাহিনীর ইমেজের ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে।
ইএইচএস/এমএসএম