অলস সচিবালয়ে প্রথম দিনে খোশ গল্প

ঈদুল আজহার ছুটি শেষে মঙ্গলবার (১২ জুলাই) থেকে খুলেছে সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত, ব্যাংক-বিমাসহ সব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। এ দিন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। পরস্পরের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় ও খোশ গল্প করে সময় পর করতে দেখা গেছে অনেককে।  

এবার ঈদুল আজহার ছুটি তিন দিনের হলেও একদিন শনিবার গেছে সাপ্তাহিক ছুটির মধ্যে। বাকি থাকে দু’দিন রবি ও সোমবার। সাপ্তাহিক ছুটি শুক্র ও শনিবারসহ এবার ঈদুল আজহার ছুটি কাটানো গেছে মূলত চার দিন। ছুটি শেষ হয়েছে মঙ্গলবার।

সপ্তাহের তৃতীয় দিন মঙ্গলবার (২২ জুলাই) যথারীতি খুলেছে সরকারের প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়। কিন্তু বেশির ভাগ দফতর ও বিভাগের গেট খোলোনি, বাতি জ্বালানো হয়নি। তাই সেসব বিভাগে বা দফতরে বিরাজ করছে ভুতুড়ে পরিবেশ।

মঙ্গলবার বেলা ১২টা থেকে ১টার মধ্যে সচিবালয়ে সরেজমিন ঘুরে এমন পরিবেশ দেখা গেছে। 

মঙ্গলবার (১২ জুলাই) সকাল ১০টার পর থেকে সচিবালয়ের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দফতরে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের লাইট বন্ধ, কলাপসিবল গেটে তালা। যে কয়টি দফতর খুলেছে সেসব দফতরে উপস্থিতির হার খুবই কম।

যারা ঈদের ছুটি শেষে প্রথম দিন অফিস করতে এসেছেন তারা জানিয়েছেন, অনেকেই ছুটি নিয়ে বাড়ি গেছেন। অনেকে মৌখিক অনুমতি নিয়ে গেছেন। আবার অনেকে ছুটি বা অনুমতি নেননি। তারা হয়তো সরাসরি বাড়ি থেকে দিনের এক ফাঁকে অফিসে আসবেন। সই করবেন, নিশ্চিত করবেন তার প্রথম দিনের উপস্থিতি। রাজধানীর আশেপাশের জেলায় যাদের বাড়ি, তারাই সাধারণত এ কাজটি করবেন বলে জানিয়েছেন তারা।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে গিয়ে ঘুরে দেখা গেছে, এ বিভাগের অধিকাংশ দফতর খোলা রয়েছে। তবে উপস্থিতির হার খুবই কম। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সম্পৃক্ত মাঠ প্রশাসন অধিশাখায় কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম হজে গেছেন। তাই এ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব, উপসচিবসহ অপরাপর কর্মকর্তারা কাজ করছেন নিজ নিজ দফতরে। এদের মধ্যে অনেকেই ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় পর্বটিও সেরেছেন। 

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে দেখা গেছে, প্রতিমন্ত্রীর দফতর, সচিবের দফতর খোলা রয়েছে। প্রয়োজনীয় কাজ করছেন উপস্থিত কর্মকর্তারা। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবের দফতর খোলা থাকলেও জরুরি প্রয়োজনে সীমিত জনবল রাখা হয়েছে এখানে।

ছুটি শেষ প্রথম দিন অফিস করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার,  দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

ডা. এনামুর রহমান ও বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ। তারা সবাই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিয়ম করেছেন।

সরকারের প্রচারযন্ত্র হিসবে তথ্য অধিদফতর কার্যক্রম চালু রয়েছে। তথ্য অধিদফতরের নিউজ রুম সারা বছরই খোলা থাকে। এখানে ঈদের দিনও পিআইডির নিউজ রুমে রোস্টার অনুযায়ী কর্মকর্তা কর্মচারীরা কাজ করেন। এখনও করছেন সেভাবে।

দেখা গেছে, বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ অফিস করছেন। তার দফতরের কর্মকর্তরা-কর্মচারীরাও কাজ করছেন। সচিবালয় ক্লিনিক খোলা রয়েছে। সেখানে কাজ করছেন চিকিৎসক, নার্সসহ সশ্লিষ্ট কর্মচারীরা। কোভিডের টিকা দেওয়ার কেন্দ্র হিসেবেও সচিবালয় ক্লিনিক কাজ করছে। এছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষও খোলা রয়েছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কন্ট্রোল রুম খোলা রয়েছে।

কোভিড নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের পুরোটাই খোলা রাখা হয়েছে। শিক্ষা বিভাগের আংশিক খোলা রয়েছে।

জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে গত রবিবার (১০ জুলাই) সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে।

এ সময়ে জরুরি সেবা ছাড়া প্রায় সব মন্ত্রণালয় বন্ধ ছিল। ছুটি শেষে অফিস খুলেছে। তবে প্রায় প্রতিটি দফতরই কর্মকর্তা-কর্মচারদের উপস্থিতির হার ছিল কম। প্রথম দিন যারা মন্ত্রণালয়ে ডিউটি করছেন, তারাও অনেকটা আরাম-আয়েশে গল্প করেই সময় পার করছেন।