নারী-পুরুষ নির্বিশেষে নারী নিপীড়নের বিরুদ্ধে জেগে ওঠার আহ্বান নিয়ে চতুর্থ বছরের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ওয়ান বিলিয়ন রাইজিং রেভ্যুলুশন বা উদ্যোমে উত্তরণে শতকোটি। শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন এই আন্দোলনের উদ্যোক্তা আমেরিকান অ্যাক্টিভিস্ট শিল্পী ইভ এন্সলার ও ফিলিপাইনের মনিক উইলসন। তারা বলেন এবছরে ভুক্তভোগীদের শোনা, কাজ করা এবং জেগে ওঠার প্রতিপাদ্য নিয়ে তারা কাজ শুরু করছেন এবং এই অভিযাত্রা বাংলাদেশের থেকেই শুরু করতে যাচ্ছেন তারা।
নারীদের প্রতি সহিংসতা নিরসন দিবস এর কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই ২০১২ সালে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নারীবাদী গণ আন্দোলন ওয়ান বিলিয়ন রাইজিং বা উদ্যোমে উত্তরণে শতকোটির সূচনা হয়। বিশ্বজুড়ে নারীদের প্রতি যৌন নিপীড়ন বন্ধের দাবিতে ইভ-এর উদ্যোগে এই আন্দোলন শুরু হয়।
‘জীবদ্দশায় প্রতি ৩ জনের মধ্যে ১ জন নারী ধর্ষণ বা কোনো না কোনো সহিংসতার শিকার হয়’ জাতিসংঘের একটি পরিসংখ্যানের সূত্র ধরে বিশ্বজনসংখ্যার প্রেক্ষিতে সহিংসতার শিকার হওয়া নারীদের সংখ্যা দাঁড়ায় ‘ওয়ান বিলিয়ন’ বা শতকোটি। আর এই শতকোটি নারীকে সহিংসতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর মন্ত্রে দীক্ষিত করতেই সৃষ্টি এই বৈপ্লবিক নারী আন্দোলন বলে জানান উদ্যোক্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শুক্রবার ও শনিবার মিলিয়ে দুইদিন ইভ ও মনিক বাংলাদেশে নারী শ্রমিক, তরুণ ও সাংবাদিকদের সাথে আলাপ করবেন দেশ ও বিশ্বের নারীর প্রতি সহিংসতার চিত্র নিয়ে। আগামীকাল শনিবার সকালে ছায়ানট ভবনে এবং বিকেলে ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তাদের সফর শেষ হবে, যেখানে এই দুই বিদেশী অ্যাক্টিভিস্ট শিল্পীর পারফরমেন্স থাকবে।
নিজেদের উদ্যোগ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মনিক উিইলসন বলেন, এই বছরটা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং। আমরা বছরজুড়ে ভুক্তভোগীদের কস্টের অভিজ্ঞতাগুলো শুনবো সে অনুযায়ী কর্মসূচি নিবো এবং জাগরণের পথে এগোবো। প্রশ্ন করতে না শিখলে বিপ্লব সম্ভব না; তার জন্য আসল বিষয়গুলো সরাসরি যারা ভিকটিম তাদের কাছ থেকেই শুনতে হয়। এরই অংশ হিসেবে রানাপ্লাজা ও তাজরীন গার্মেন্টের শ্রমিকদের অভিজ্ঞতা শুনবেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে জাগরণের কথা বলতে গিয়ে ‘নিজেরা করি’ সংগঠনের প্রধান খুশী কবীর বলেন, আমরা চারবছর ধরে লক্ষ্য করেছি নারীর সাথে সাথে পুরুষদের সংহতি ও উপস্থিতি বাড়ছে, যা এই আন্দোলনের জন্য সবচেয়ে জরুরি। পুরুষতান্ত্রিকতার গেড়াকলে পড়ে পুরুষরা মানুষ হয়ে উঠছেন না। এই জায়গা আমরা ভাঙতে চাই।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এ্যাকশন এইড বাংলাদেশের প্রধান ফারাহ কবীর, নারীনেত্রী ফৌজিয়া খন্দকার, সিনিয়র সাংবাদিক রাহুল রাহাসহ আরও অনেকে।
সাংবাদিকদের সামনে উদ্যমে উত্তরণে শতকোটি’র মূল জায়গাগুলো তুলে ধরার সময় ইভ বলেন, সূচনাকাল থেকেই এই আন্দোলন বিশ্বজুড়ে নিপীড়িত নারীদের বিশ্বাস অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। ২০১৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্বের ২ শতাধিক দেশের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে এই আন্দোলনের বৈপ্লবিক অগ্রযাত্রা শুরু হয়। শুধু কর্মসূচি পালনের আনুষ্ঠানিকতাতেই সীমাবদ্ধ না থেকে প্রত্যক্ষভাবে মানুষকে সামাজিকভাবে সচেতনায়নের কাজ করে চলেছে মঞ্চটি।
/ইউআই/এপিএইচ/