সংসদের বৈঠকে সরকারি অর্থ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী ‘বাজেট ২০১৫-২০১৬: প্রথম প্রান্তিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতি এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ সংক্রান্ত প্রতিবেদন’ উত্থাপন করেন। এর আগে বিকেল সাড়ে চারটায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।
উত্থাপিত প্রতিবেদনে অর্থমন্ত্রী বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার এ সরকারের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাজ। নানামুখী বাধা সত্ত্বেও ক্রমশ যৌক্তিক ও প্রত্যাশিত পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। অনেক মূল্যে কেনা স্বাধীন বাংলাদেশে জাতিকে এই দায় থেকে মুক্ত করতে সরকার বদ্ধ পরিকর।
মুহিত বলেন, ধারাবাহিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথ ধরে অনেক সম্ভাবনাকে সামনে রেখে সূচনা হয়েছে ২০১৫-১৬ অর্থবছর। শুরু থেকেই সচল আছে অর্থনীতির চাকা। সরকারের প্রাজ্ঞ ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীল রয়েছে সামষ্টিক অর্থনীতির সকল খাত। আছে রাজনৈতিক সুস্থিরতা। বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও যোগাযোগ খাতে সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে তৈরি হচ্ছে বিনিয়োগ সহায়ক পরিবেশ। সব মিলিয়ে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, সুষম, সমৃদ্ধ ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গঠনের যে স্বপ্ন রচনা করেছি, তা বাস্তবায়নের এখনই অনুকূল সময়। এই সময়ের যথাযথ ব্যবহারের জন্য প্রয়োজন সবার নিঃস্বার্থ অংশগ্রহণ।
প্রতিবেদনে অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি প্রাক্কলন করা হয়েছে ৮৬ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৫ শতাংশ। ঘাটতি অর্থায়নে বৈদেশিক সূত্র থেকে জিডিপির এক দশমিক ৭ শতাংশ এবং অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে তিন দশমিক তিন শতাংশ সংস্থানের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার বিষয়টি লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে সীমিত রাখতে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
চলতি অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রয়েছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, জিডিপির শতাংশ হিসেবে সরকারি ঋণের স্থিতি ৩৫ শতাংশ। এটা অত্যন্ত সহনীয়। সার্বিকভাবে সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনায় সরকারের অবস্থান বেশ ভালো।
আমদানি ও রফতানি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে রফতানি খাতের অর্জিত প্রবৃদ্ধি শূন্য দশমিক আট শতাংশ। ইঞ্জিনিয়ারিং ও ইলেকট্রিক দ্রব্যাদি, কাঁচা পাট, ওভেন গার্মেন্টস এবং রাসায়নিক দ্রব্য রফতানির ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হলেও পাটজাত দ্রব্য (কার্পেট ছাড়া), চা, হিমায়িত খাদ্য, চামড়া নিটওয়্যার এবং কৃষিজাত পণ্যের রফতানির প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হয়নি। তিনি বলেন, সম্প্রতি উন্নত দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের গতি কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় রফতানি খাতে শিগগিরই গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করা যায়।
জনশক্তি রফতানি ও রেমিট্যান্স প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত অর্থবছরের শেষ প্রান্তিক থেকে চলতি অর্থবছরের অগস্ট পর্যন্ত বিদেশে কর্মী পাঠানো কমে যাওয়ার ফলে প্রবাসী আয়ও কমেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রবাস থেকে মোট আয় এসেছে তিন হাজার ৯৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, বিগত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিলো চার হাজার ১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। কয়েকটি দেশে জনশক্তি রফতানি কমে যাওয়ার উদ্যেগে তৈরি হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি সৌদি আরব, কুয়েত, ওমান ও কাতারের জনশক্তি রফতানি আশাব্যঞ্জক হলেও মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও লেবাননে জনশক্তি রফতানি হ্রাস উদ্যোগে তৈরি করেছে। সরকারের কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক তৎপরতার ফলে সম্প্রতি বিভিন্ন অপ্রচলিত বাজারে জনশক্তি রফতানি বেড়েছে।
/ইএইচএস/এমএনএইচ/