অনলাইনে এভাবে ধর্ষণের হুমকি যারা দিচ্ছেন, তাদের এখনই চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছেন অনলাইন এক্টিভিস্টরা। তারা বলছেন, ফেসবুক নাকি নজরদারিতে আনা হয়েছে। তাহলে এটা কী ধরনের নজরদারি, যেখানে একটা পেজ খুলে একজন নারীকে ধর্ষণ থেকে শুরু করে সবধরনের হয়রানির হুমকি দেওয়া হচ্ছে? আর আইনজীবীরা বলছেন, ধর্ষণ করেও ধর্ষক মুক্তি পেয়ে যান বলেই এত সহজে এ ধরনের হুমকি দিতে পারেন।
ভালোবাসা দিবসের দিনে ঢাকায় প্রকাশ্যে চুমু খাওয়ার আহবান জানিয়ে দুই প্রবাসী বাংলাদেশি ফেসবুকে ‘ভালোবাসা দিবসে পুলিশি পাহারায় প্রকাশ্যে চুমু খাব’ নামে একটি ইভেন্ট খোলেন। আর এরপরই তাদের ওপর শুরু হয় আক্রমণ। অশালীন শিরোনামে জিম রহমানসহ আরও কয়েকজন পাল্টা ফেসবুক ইভেন্ট খোলেন। দুটার জায়গা হিসেবেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ঠিকানা দেওয়া।
প্রকাশ্যে চুমু খাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশ কিছু না বলার পর ইভেন্ট খোলার কারণ বলতে গিয়ে তিনি ব্যাখ্যা করেন, বাংলাদেশের পুলিশ সরাসরি কিছু বলেনি। আমি ইভেন্টের বর্ণনায় স্পষ্ট লিখেছি। বাংলাদেশের পুলিশ এবং কিছু গুণ্ডা-পাণ্ডারা সবসময় প্রেমিক প্রেমিকাদের হয়রানি করে পার্কগুলোয়। টাকা চাওয়া, মোবাইল নিয়ে যাওয়া, বাবা মায়ের নম্বর নেওয়া এবং বিয়ে পড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। তাই প্রতিবাদস্বরূপ এই ইভেন্টের ডাক দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, আরেক হোস্ট অনন্য আজাদ বলেন, প্রথমত, ইভেন্টের বর্ণনাতে উল্লেখ করা আছে, ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে ভারতের পুলিশ ঘোষণা দিয়েছে প্রকাশ্যে চুম্বন করা যাবে না। সেটার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা প্রতিবাদের ডাক দিয়েছি। আমরা কোথাও বলিনি, বাংলাদেশের পুলিশবাহিনী এমন ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু গত বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়ও ২ জন পুলিশ রোকেয়া হলের সামনে ১ প্রেমিকজুটিকে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে ফেলেন। এর প্রতিবাদের অনলাইনে লেখালেখি হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, আমরা ভালোবাসার পক্ষে। চুম্বন করা অপরাধ নয়। 'প্রকাশ্যে' শব্দটি ব্যবহার করার কারণে অনেকে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। আমরা তাদের সমালোচনা গ্রহণ করছি। বাংলাদেশে কি প্রকাশ্যে কেউ চুম্বন করে না? অবশ্যই করে। কিছু সেটা যখন ঘোষণা দিয়ে বলা হয়েছে, তখন অনেকেই ক্ষিপ্ত হয়েছেন। অদ্ভুত বিষয় হলো, যারা প্রকাশ্যে চুম্বনের বিপক্ষে, তারাই ধর্ষণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
এ বিষয়ে ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, অনলাইনে নারীর প্রতি যৌন হয়রানি দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। আইনের প্রয়োগ বেছে বেছে হওয়ার কারণে প্রকাশ্যে ধর্ষণের হুমকি দিয়েও লোকজন পার পেয়ে যাচ্ছেন। যারা এসব হুমকি দিচ্ছেন, তারা জানেন তারা যদি এমন অপরাধ করেনও, তাহলেও তাদের কিছুই হবে না। শাস্তিহীনতার সংস্কৃতি সবার মধ্যে বিকৃতির জন্ম দিচ্ছে। কারও কোনও কাজের প্রতি আপনার সমর্থন না থাকতে পারে কিন্তু প্রতিবাদের ভাষা শালীন হওয়া চাই। এটুকু বোধ যাদের কাজ করে না, তাদের খাঁচায় থাকাই শ্রেয়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, যারা হুমকি দিচ্ছেন, তাদের শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করছি।
/এমএনএইচ/