আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলির কার্যালয়ের প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলীকে সব মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গত ৪ ফেব্রুয়ারি ইস্যু করা চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
চিঠিতে বলা আছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলির কার্যালয়ের প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলীকে আলবদর শামসুল হক গং, শামসুল হোসেন তরফদার এবং অন্যান্য মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টতা থেকে প্রত্যাহার করা হলো। পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পরিচালনাধীন কোনও মামলা পরিচালনার কাজে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হলো। এ আদেশটি জনস্বার্থে দেওয়া হলো।
তবে এক সূত্র জানায়, এমপি হান্নানের মামলায় তিনি প্রসিকিউটরসুলভ আচরণ না করার কারণে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে হয়েছে। এর আগেও প্রসিকিউশনের অন্যান্য সদস্যরা মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগ এনে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
মঙ্গলবার অব্যাহতিপত্র হাতে পাওয়ার পর বেলা ১১টা ৪৪ মিনিটে মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করার পরও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এর আগে তার বিরুদ্ধে প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ লিখিত অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেও আমার সহকর্মীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছি। কিন্তু তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে কখনও ভর্ৎসনাও করা হয়নি।’
অভিযোগগুলো মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল কিনা প্রশ্নের জবাবে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর (অ্যাডমিন) জেয়াদ আল মালুম বলেন, ‘এ বিষয়ে পরে জানানো হবে।’
এদিকে, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চিঠি আমাদের হাতে পৌঁছেছে। আমরা বিষয়টি দেখব।’ এর আগেও বড় ধরনের অভিযোগ এই প্রসিকিউটরের নামে মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিলে মন্ত্রী বলেন, ‘হ্যাঁ, বিষয়টি কেন ঘটছে বুঝতে পারছি না। আমরা তদন্ত করবো।’
এর আগে ২০১৪ সালের জুনে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের (প্রসিকিউটর) মধ্যে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের ঘটনা ঘটে। প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলী অপর প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান কৌঁসুলি সৈয়দ হায়দার আলী বরাবর আবেদন করেন।
তুরিন আফরোজ মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে মানসিক হয়রানির অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ভারপ্রাপ্ত চিফ প্রসিকিউটর বরাবর আবেদন জানান। ২০১৪ সালের মার্চে তুরিন আফরোজ ও মোহাম্মদ আলী আরেক দফা পরস্পরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এনেছিলেন। সেসময় আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘প্রসিকিউশন টিমের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব থাকলেও কাজে কোনও সমস্যা হচ্ছে না। কাজ ঠিক মতোই চলছে। তবু আমি সমস্যা নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।’
সেসময় ভারপ্রাপ্ত প্রধান কৌঁসুলি সৈয়দ হায়দার আলীর কাছে লিখিত অভিযোগে তুরিন আফরোজ বলেন, ‘২০১৪ সালের ১১ জুন বুধবার বেলা সোয়া ২টায় ভারপ্রাপ্ত চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ের পক্ষে সহকর্মী মোহাম্মদ আলী একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। যা প্রধান কৌঁসুলির অনুমতি ছাড়া করা হয়। ওই সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ আলী আমার সম্পর্কে যেসব অভিযোগ করেছেন তা সত্য নয়।’
তুরিন আফরোজ বলেন, ‘মোহাম্মদ আলী অনবরত আমার সম্মান নষ্টের জন্য অপেশাদারি আচরণ করছেন। আমার ব্যক্তিগত ও প্রফেশনাল লাইফ নিয়ে কুৎসা রটাচ্ছেন।’
তুরিন বলেন, ‘এর আগেও মোহাম্মদ আলী আমাকে নিয়ে গণমাধ্যমে আপত্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন। আমি ৩ মার্চ চিফ প্রসিকিউটর বরাবর এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানিয়ে আবেদন করেছিলাম। তবে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’
/এসটি/