উল্লেখ্য, ঢাকা সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ঠিক মতো কাজ করেন না—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ কারণে প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি পর্যন্ত আবর্জনার স্তূপ দেখা যায়। করপোরেশনের পক্ষ থেকে বারবার উদ্যোগ নেওয়ার পরও বন্ধ হয়নি ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা। কতিপয় কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের এই ফাঁকিবাজি চলছেই। কাজ না করেও কেউ-কেউ বেতন তুলে নিচ্ছেন ঠিকই। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের এই ফাঁকি রোধে এবার ডিজিটাল লোকেশন ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু হচ্ছে বলে জানালেন, ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন রকিবউদ্দিন ভূঁইয়া। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ডিজিটাল লোকেশন ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু হলে ডিউটির সময় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঠিক অবস্থান জানা যাবে। তারা কখন, কোথায় আছেন, সেটা জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
রকিবউদ্দিন ভূঁইয়া জানান, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজের সময় হলো রাত তিনটা থেকে সকাল আটটা। ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের ফলে তাদের নিরাপত্তা অনেক বাড়বে। ডিএসসিসির অধীনে বর্তমানে পাঁচ সহস্রাধিক পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং ৭৯ জন কর্মকর্তা রয়েছেন।
ডিএসসিসির সিস্টেম এনালিস্ট আবু তৈয়ব রোকন বলেন, ডিজিটাল এটেনডেন্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের আওতায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য ডিজিটাল লোকেশন ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু করা হচ্ছে। ৫ হাজার ২১৬ পরিচ্ছন্নতাকর্মীর প্রত্যেককে একটি করে সিম বিনামূল্যে দেওয়া হবে। কম খরচে কথা বলার জন্য গ্রামীণফোন কোম্পানি থেকে একটি করপোরেট প্যাকেজের অধীনে এই প্রিপেইড সিমগুলো নেওয়া হচ্ছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা এই সিমগুলো নিজ নিজ মোবাইল সেটে ব্যবহার করবেন। মোবাইল নম্বরগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং করা হবে। তিনি জানান, এই মনিটরিং কেবল পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ডিউটি চলাকালে হবে। ডিউটি শেষে তারা মনিটরিংয়ের আওতায় পড়বেন না। তিনি আরও বলেন, আশা করছি, আগামী দুই মাসের মধ্যে ডিএসসিসির প্রত্যেক পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে ডিজিটাল লোকেশন ট্র্যাকিং সিস্টেমের আওতায় আনা সম্ভব হবে। এর ফলে সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ওয়ার্ডের কে কোথায়, কী করছেন, আমরা জানতে পারব। তিনি জানান, দশ দিন আগে আমরা ডিএসসিসির পাঁচটি অঞ্চলের পাঁচটি ওয়ার্ডে (ওয়ার্ড নম্বর-১, ৭, ২০, ২৬ ও ৩৪) কর্মরত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ডিজিটাল লোকেশন ট্র্যাকিং সিস্টেমের আওতায় এনেছি। সফলভাবে চলছে আমাদের এই পরীক্ষামূলক কর্মসূচি।
সিস্টেম এনালিস্ট আবু তৈয়ব রোকন বলেন, সিটি করপোরেশনের প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারী যেন যথাসময়ে অফিসে হাজির হন, সে জন্য পাঁচ মাস আগে ফিঙ্গার প্রিন্টের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই সিস্টেম আপাতত নগরভবনে চালু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি আঞ্চলিক কার্যালয় এবং সিটি করপোরেশনের হাসপাতালগুলোয়ও ডিজিটাল এটেনডেন্স সিস্টেম চালু করা হবে। এ ছাড়া সম্প্রতি নগরভবনে ‘ফেস ডিটেকশন সিস্টেম’ চালু করা হয়েছে মেয়র সেল ও এক্সিকিউটিভ ফ্লোরের জন্য। এই সিস্টেমের আওতায় প্রবেশপথে স্থাপিত যন্ত্রের সামনে কোনও কর্মকর্তা দাঁড়ালে যন্ত্রটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই কর্মকর্তাকে শনাক্ত করতে পারবে। তখন কর্মকর্তাকে অফিসে হাজির বলে গণ্য করা হবে। এ জন্য ফিঙ্গারপ্রিন্ট লাগবে না।
আবু তৈয়ব জানান, নগরভবনে কর্মরতদের হাজিরার জন্য ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ফেস ডিটেকশন সিস্টেম চালু করতে ডিএসসিসির নিজস্ব তহবিল থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। আঞ্চলিক অফিস ও ডিএসসিসির হাসপাতালগুলোতে এ সিস্টেম চালু করতে আনুমানিক ২০ লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে।
গ্রামীণফোনের অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার একেএম হাবিবুল্লাহ জানান, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য তারা সিম দিচ্ছেন। এ সব সিমে কথা বলার রেট অনেক কম। এ ছাড়া একই প্যাকেজের আওতায় অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীকেও সিম দেওয়া হবে। সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার সিম দেওয়া হবে।
/এমএনএইচ/