‘প্রধানমন্ত্রী দুর্যোগ-দুর্ঘটনা প্রশমিত না হওয়া পর্যন্ত ঘুমান না’

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সবসময় দুর্যোগে সজাগ থাকেন। যেকোনও দুর্যোগ-দুর্ঘটনা ঘটলে যতক্ষণ পর্যন্ত সেটা প্রশমিত না হয় তিনি ঘুমান না। আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। সারাক্ষণ টেলিফোনে নির্দেশ দিয়ে থাকেন। পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সাহস দেন।’

মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর প্রধান নদীবন্দর সদরঘাট নৌ-টার্মিনালে এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে সেখানে ‘ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ডে সচেতনতা বৃদ্ধির মহড়া’ অনুষ্ঠিত হয়। এখানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ত্রাণমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, এবার সিলেটের বন্যায় প্রধানমন্ত্রী যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নিতেন, লাখ লাখ মানুষ পানির নিচে ডুবে মারা যেতো। তিনি আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ, বর্ডার গার্ড, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, আনসার, ভলান্টিয়ার সবার যা বোট আছে তা-ই নিয়ে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজ চালিয়ে যেতে। সেনাবাহিনীর ছয়টি হেলিকপ্টার সিলেট-সুনামগঞ্জে অনুসন্ধান চালিয়েছে। সেনাবাহিনী, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, বর্ডার গার্ডের বোট একযোগে কাজ করেছে। যার জন্য একদিনে ৯ লাখ ৫০ হাজার লোককে উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে নিতে পেরেছি। প্রধানমন্ত্রী সজাগ না থাকলে হয়তো এই মানুষগুলো পানিতে ডুবে মারা যেতো। যে দেশের প্রধানমন্ত্রী জেগে থাকেন, দুর্যোগে ঘুমান না, সে দেশের মানুষের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। আপনাদের পাশে প্রধানমন্ত্রী সবসময় জেগে মঙ্গলের জন্য কাজ করেন।ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ডে সচেতনতা বৃদ্ধির মহড়া

এ সময় তিনি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদস্যদের সাহসিকতার প্রশংসা করে বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ এখন বিশ্বের রোল মডেল। এর সব কৃতিত্ব আমাদের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদস্যদের। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ১৩ জন সদস্য, গুলশানে একজন সদস্য জীবন হারিয়েছেন। তাদের সাহস, সক্ষমতা, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করার জন্য আজ বাংলাদেশ রোল মডেল হতে পেরেছে।

‍‍‍‍‍‍‍‍‍ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকারের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর ২২০ কোটি টাকার সরঞ্জাম কিনেছি। প্রধানমন্ত্রী ২০২১ সালের বাজেটে দুই হাজার ২৭৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন, যার প্রথম বরাদ্দ থেকে দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই হাজার ২৭২ কোটি টাকার উদ্ধার সামগ্রী ও যন্ত্রপাতি কেনা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সক্ষমতা বাড়াতে এবং বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের শহরগুলোতে ৬৫ ও ৫৫ মিটার উচ্চতায় উদ্ধার কার্যক্রম চালানোর লক্ষ্যে ইতোমধ্যে উন্নতমানের লেডার (মই) কেনা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুল হাসান বলেন, দুর্ঘটনা কখনও বলে আসে না। তাই প্রস্তুত ও সতর্ক হতে হবে। চুরিহাট্টা, নিমতলির ঘটনা, এমনকি সদরঘাটে লঞ্চে অগ্নিকাণ্ড থেকে আমাদের বুঝতে হবে, প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। যেকোনও নির্মাণের সময় অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে।ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ডে সচেতনতা বৃদ্ধির মহড়া

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের অপারেশন অ্যান্ড মেনটেইন্যান্স পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান বলেন, পুরান ঢাকা ঐতিহ্যবাহী এলাকা। এখানে অনেক পুরাতন নতুন ভবন আছে। এই ভবনগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ভূমিকম্প ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ, অগ্নিকাণ্ড, যার ঝুঁকি পুরান ঢাকায় বিদ্যমান। তাই এই এলাকার মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে। বাসস্থান ও কর্মস্থলে নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবস্থা রাখতে হবে। তাহলে যেকোনও পরিস্থিতিতে ক্ষয়ক্ষতি কমানো যাবে।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কে এম আব্দুল ওয়াদুদ, ডিএসসিসি’র আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হায়দার আলী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব সেলিম আহমেদ প্রমুখ।

এর আগে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদস্যদের অংশগ্রহণে সদরঘাট ৪ নম্বর টার্মিনালে মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এসময় দুর্যোগকালীন মুহূর্তে ফায়ার সদস্যদের কর্মতৎপরতা প্রদর্শন ও বাসাবাড়িতে অগ্নিনির্বাপণ পদ্ধতি দেখানো হয়।