জানা যায়, ১ লাখ ফ্রি ওয়াই-ফাই হটস্পট তৈরির সঙ্গে একাধিক পক্ষ জড়িত রয়েছে। পক্ষগুলোর মধ্যে সিংক্রোনাইজ করে প্রকল্পের বিষয়ে উদ্যোগী হবে এর সঙ্গে জড়িতরা। বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সরকারের ইনফো সরকার-৩ প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম হওয়ার কথা ‘স্টাবলিশিং ডিজিটাল কানেক্টিভিটি’ প্রকল্প। এই প্রকল্পের কাজগুলো হবে উচ্চ প্রযুক্তির বা ‘হাই এন্ড’-এর। যেসব প্রকল্প দেশকে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে সেসব `বিষয়' নতুন এই প্রকল্পে যুক্ত হবে। এই প্রকল্পের আওতায় ১ লাখ ফ্রি ওয়াই-ফাই হটস্পট তৈরি হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু নাম পরিবর্তন হয়ে নতুন নাম চূড়ান্ত না হওয়া-সহ একাধিক কারণে ওয়াই-ফাই হটস্পট তৈরির কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) অধিদফতরের মহাপরিচালক জসিম উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এ বিষয়ে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আলোচনার একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে ১ লাখ হটস্পট তৈরির বিষয়টি। বলা যায়, একেবারেই ‘পরিকল্পনা’ পর্যায়ে রয়েছে। তবে তার আগে স্টাবলিশিং ডিজিটাল কানেক্টিভিটি প্রকল্প চূড়ান্ত করতে হবে বলে তিনি জানান। হটস্পট তৈরি করা হলে প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলো যেন ক্ষতির সম্মুখীন না হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এরসঙ্গে এনটিটিএন, মোবাইলফোন অপারেটরসহ অনেক প্রতিষ্ঠান জড়িত রয়েছে। তারা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেভাবেই আমাদের মডেল তৈরি করতে হবে।
জসিম উদ্দিন আহমেদ বলেন, এ খাতে কিছু ওভার ল্যাপিং রয়েছে। সেগুলোর প্রতি নজর রাখতে হবে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, আইসিটি বিভাগ, বিটিআরসি ইত্যাদি সংস্থাগুলোর মধ্যে আমাদের সিংক্রোনাইজ করে কাজটি করতে হবে। এ ছাড়াও রয়েছে অর্থায়নের বিষয়টি। এ কাজটি সম্পন্ন করতে বিপুল অংকের অর্থ প্রয়োজন। সেই অর্থ কিভাবে সংস্থান হবে তা-ও চূড়ান্ত করতে হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখনও অর্থের সংস্থান হয়নি। তিনি আবারও উল্লেখ করেন, আমরা এই প্রকল্প শুরুর একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছি।
তবে সম্প্রতি আইসিটি বিভাগের এক অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক হটস্পটের বিষয়ে বলেন, ওয়াই-ফাইয়ের গতি কতো হবে, কতটুকু এলাকা কাভার করবে, কোন ধরনের জায়গায় বসানো হবে, কি ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হবে ইত্যাদি বিষয় আমাদের বিবেচনায় নিতে হবে। এটা এখন সময়ের দাবি। তরুণ প্রজন্মের আগ্রহের বিষয়বস্তু। আমরা তরুণ প্রজন্মকে এই ফ্রি হটস্পট নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে চাই।
প্রসঙ্গত, সরকারিভাবে না হলেও বেসরকারিভাবে অনেক প্রতিষ্ঠান দেশে ওয়াই-ফাই হটস্পট নির্মাণ করছে। এর মধ্যে মোবাইলফোন অপারেটর, ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চূড়ান্তভাবে যখন সরকার এই হটস্পট তৈরির কাজে হাত দেবে তখন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর হটস্পটগুলোকেও ওই প্রকল্পের আওতায় আনা হতে পারে।
আইসিটি মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, ইনফো সরকার-৩ প্রকল্পের নাম হওয়ার কথা ছিল ডিজিটাল উইন্ডো। কিন্তু কৌশল এবং পদ্ধতিগত কিছু কারণে নাম পরিবর্তন করা সম্ভব হয়নি। পরে প্রকল্পটিকে স্টাবলিশিং ডিজিটাল কানেক্টিভিটি নামকরণের পরিকল্পনা চলছে। বর্তমানে প্রকল্পটি নিয়ে 'পেপার ওয়ার্ক' চলছে। চলতি অর্থ বছরে প্রকল্পটি শুরু করার ইচ্ছে রয়েছে আইসিটি বিভাগের। সূত্র আরও জানায়, পুরো দেশকে ‘কানেক্টেড' করতে অনেক প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। এসব শেষ হয়ে গেলে কিছু কাজ হাতে নেওয়া হবে যেসব কাজ উন্নত দেশগুলোর একেকটি মডেল হবে। ওইসব মডেল অনুসরণ করে বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে আইসিটি বিভাগের।
তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প (ইনফো সরকার-৩) শেষ না হলে ৬ মাস সময় বাড়ানো হতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রকল্প শেষ হতে ২০১৮ সালের জুন মাস পর্যন্ত লেগে যেতে পারে। আইসিটি বিভাগের লক্ষ্য ছিল, ২০১৮ সালের মধ্যে ইনফো সরকার-৩ প্রকল্প বাস্তবায়নের। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে প্রকল্পটি ২০১৭ সালের মধ্যেই শেষ করা হবে। প্রকল্পটি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আগ্রহ রয়েছে বলে ওই সূত্র জানায়।
/এইচএএইচ/এপিএইচ/