পাথরের আকারসহ নানা বিষয়ে প্রতারণার অভিযোগে গত শনিবার থেকে বাংলাদেশি আমদানিকারকরা ভারতের পাথর গ্রহণ বন্ধ করে দিলে তৈরি হওয়া অচলাবস্থার মধ্যে এ সিদ্ধান্ত জানালো ভারতীয় রফতানিকারকরা। সোমবার সন্ধ্যায় সোনামসজিদ স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর এ সংক্রান্ত এক চিঠিতে এই হুমকি দেওয়া হয়।
মহদীপুর এক্সপোর্টাস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শ্রী সুকুমার সাহা স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, আলোচনার মাধ্যমে যদি পাথর রফতানির বিষয়টি সমাধান না হয়, তাহলে আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে যাবতীয় পণ্য রফতানি অনিদির্ষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।
এদিকে পাথর আমদানিকারকদের দাবি, পদ্মা সেতু ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র’র জন্য ভারত থেকে আনা পাথর অত্যন্ত নিম্নমানের এবং প্রতি ট্রাকে কমপক্ষে ২-৩ টন ডাস্ট থাকে। এছাড়াও ভারতীয় রফতানিকারকরা অযৌক্তিক খরচ দেখায় ও পাথরের মূল্য বৃদ্ধি করে থাকে। এর প্রতিবাদে সোনামসজিদ স্থলবন্দর আমদানি-রফতানি গ্রুপের পাথর বিষয়ক উপ-কমিটি গত শনিবার থেকে প্রথমে ছোট পাথর ও পরে বোল্ডার পাথর আমদানি বন্ধ ঘোষণা করে। গত ৫ দিন ধরেই উভয় দেশের আমদানি-রফতানিকারকরা নিজ নিজ দাবির বিষয়ে অনড় থাকায় পাথর আমদানিসংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত সমাধান না হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা।
এদিকে বন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত পাঁচ দিন ধরে পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় সরকার প্রায় ৪ কোটি ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে। সোনামসজিদ বন্দরের কাস্টমস দফতর সূত্রে জানা গেছে, ভারত থেকে আমদানিকৃত পাথরের প্রতিটনের রাজস্ব ৯৫৭ টাকা। প্রতিদিন গড়ে ২৫০ ট্রাক পাথর আমদানি হয়ে থাকে। সে হিসাবে গত ৫ দিনে সরকার মোটা অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
ভারতের মহদীপুর স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশেনের সাধারণ সম্পাদক শ্রী ভূপতি মণ্ডল জানান, বাংলাদেশি আমদানিকারকরা পাথর আমদানি বন্ধ করার ঘোষণা দেওয়ার পর মহদীপুর স্থল বন্দরে সোনামসজিদে প্রবেশের অপেক্ষায় প্রায় ৩ হাজারের বেশি পাথর ভর্তি ট্রাক আটকা পড়েছে। এই সব আটকে পড়া ট্রাকের জন্য প্রতিদিন ক্ষতিপূরণ দিতে হচ্ছে।
এছাড়া মহদীপুর বন্দরে আইনশৃঙ্খলা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে রফতানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ অ্যাজেন্টদের। তিনি আরও জানান, অবিলম্বে উভয় দেশের আমদানি রফতানিকারকরা আলোচনায় বসে এই সমস্যার দ্রুত সমাধান করবেন বলে আশা করছি।
অন্যদিকে সোনামসজিদ স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের পাথর বিষয়ক উপ-কমিটির আহ্বায়ক কাজী সাহাবুদ্দিন জানান, পাথর আমদানি বন্ধ থাকলেও সরকারের ২টি বড় প্রজেক্ট পদ্মা সেতু ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ উন্নয়ন কাজের কোনও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে না।
তিনি আরও জানান, ভারতীয় রফতানিকারকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। কয়েকদিনের মধ্যে সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে।
/জেবি/টিএন/এইচকে/