গাইবান্ধা-৫ উপনির্বাচনে অনিয়ম: তদন্ত প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার

গাইবান্ধা-৫ উপনির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের ঘটনায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠিত তদন্ত কমিটি বৃহস্পতিবার প্রতিবেদন জমা দেবে। বেঁধে দেওয়া বর্ধিত সময়ের শেষ দিনে ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথের নেতৃত্বে কমিটি তার প্রতিবেদন জমা দিচ্ছে।

জানা গেছে, তদন্ত কার্যক্রমে গাইবান্ধার ডিসি, এসপিসহ ৬২২ জন প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বক্তব্য নিয়েছে কমিটি। তাদের প্রায় বেশিরভাগই নির্বাচনের দিন ভোটগ্রহণের পরিবেশ ভালো ছিল এবং কোনও অনিয়ম ছিল না বলে কমিটির কাছে দাবি করেছে। তবে ওইসব ভোটকেন্দ্রের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ তাদেরকে দেখানোর পর তাদের অনেকেই অনিয়মের কথা স্বীকার করেছেন। কেউ কেউ অতীতে ভোটগ্রহণের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে এটাকে স্বাভাবিক ভোটের চিত্র বলেও দাবি করেছেন।

জানা গেছে, তদন্ত কমিটি সংশ্লিষ্টদের জবানবন্দী ও সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজকে ভিত্তি করে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে। এর আগে ঘটনা তদন্তে তদন্ত কমিটি গত ১৮, ১৯ ও ২০ অক্টোবর গাইবান্ধা গিয়ে তদন্ত কমিটি সংশ্লিষ্টদের সাক্ষ্যসহ তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সদস্য জানিয়েছেন, তারা তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কমিটি প্রতিবেদন জমা দিবে। চাইলে নির্বাচন কমিশন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করতে পারে।

গাইবান্ধা-৫ আসনে গত ১২ অক্টোবর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও তিনজন নির্বাচন কমিশনার সিসি ক্যামেরায় ওই নির্বাচনের অনিয়ম দেখতে পেয়ে প্রথমে ৫১টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করে দেন। বেলা আড়াইটায় পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে উল্লেখ করে পুরো নির্বাচনই বন্ধ করে দেন। এ ঘটনায় গত ১৩ অক্টোবর গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে সাত দিনের সময় দিয়ে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে ইসি।

কমিটি গত সোমবার প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও পারেনি। কমিটির আবেদনের প্রেক্ষিতে ইসি তিন দিন সময় বাড়িয়ে দেয়। বৃহস্পতিবার ওই সময় শেষ হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দেওয়া হবে বলে বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন কমিটির প্রধান অশোক কুমার দেবনাথ। তবে, কমিটির ফাইন্ডিং বা সুপারিশের বিষয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে এবং সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে আমরা যেটা পেয়েছি প্রতিবেদনে সেটাই এসেছে।

তদন্ত কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ওই নির্বাচনে ৫২টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। এর মধ্যে ৫১টি কেন্দ্রের ভোট নির্বাচন কমিশন ও একটি কেন্দ্রের ভোট প্রিজাইডিং কর্মকর্তা বন্ধ করেন। তদন্ত কমিটি এ আসনের ১৪৫টি কেন্দ্র থাকলেও ৫১টি কেন্দ্রের অনিয়ম তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে যাচ্ছে কমিটি। যদিও নির্বাচন কমিশনের কাছে ১৪৫টি কেন্দ্রেরই ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। বাকি কেন্দ্রগুলোর অনিয়মের তদন্ত করেনি কমিটি। ফলে ওইসব কেন্দ্রে অনিয়ম হলেও সাজা থেকে রেহাই পাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র আরও জানায়, ভোটের পরিবেশ ভালো থাকার কথা দাবি করে সাদা কাগজে সই দেওয়া চিঠি পেয়েছে তদন্ত কমিটি। ওইসব চিঠির প্রায় সবই সাঘাটা উপজেলার ভোটকেন্দ্রগুলোর প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের সই দেওয়া।

এছাড়া তদন্ত কমিটিকে দেওয়া বক্তব্যে বেশ কয়েকজন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অতীতে কিছু নির্বাচনের দায়িত্ব পালনে হুমকির মুখে পড়ে তার রেশ থেকে এ উপনির্বাচনেও অনিয়ম দেখার পরও কার্যকর প্রতিরোধের উদ্যোগ নিতে সাহস করেননি। যদিও এবারের নির্বাচনে তাদেরকে কেউ হুমকি দেয়নি। এছাড়া বেশ কয়েকজন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা সিসি ক্যামেরা বসানো নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।