দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে বিদ্যুৎ ও জ্বালারি খাতে বিএনপির দুর্নীতির ফিরিস্তি তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। নাইকো, সিদ্দিরগঞ্জ ও খাম্বা দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তারেক রহমান যে পরিমাণ লুটপাট করেছে সেই হিসাব আমাদের কাছে রয়েছে। নির্বাচন সামনে আসতেছে তো, প্রস্তুত থাকেন। সব দেখাবো।
মঙ্গলবার (১ নভেম্বর) জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদের এ সংক্রান্ত সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। এর আগে হারুন বলেন, সংসদে প্রশ্নোত্তরে জবাব দেওয়ার সময় প্রতিমন্ত্রী বার বার বিএনপি-জামায়াতের কথা টানছেন। তিনি প্রতিমন্ত্রীর সমলোচনা করেন এবং বিএনপি আমলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম কী ছিল তা জানতে চান।
বিএনপির দলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদ তার সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, প্রতিমন্ত্রী বিএনপি-জামায়াত সরকারের কথা কমপক্ষে ৫০ বার বলেছেন। যা প্রসঙ্গেই নাই। আপনি জানাবেন (বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী) বিএনপি সরকারের আমলে বিদ্যুৎ, গ্যাসের দাম কত ছিল?
তিনি বলেন, আমি আপনার কাছে স্পষ্ট জানতে চাচ্ছি বিএনপির সরকার গ্যাসের যে চুক্তি করেছে, সেটা আছে কিনা? সেটা সংসদে উপস্থাপন করবেন। বিএনপির আমলে নিত্যপণ্যের দাম কত ছিল তার উত্তর দিন। শুধু বিএনপি জোট সরকারের সময় এই হচ্ছে, ওই হচ্ছে গল্প শোনাচ্ছেন।
হারুনের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, সংসদ সদস্য (হারুন) অনেক উত্তেজিত হয়ে গেছেন। অনেকে সত্য কথা সহজে নিতে পারেন না। আমিও চাই সংসদে সময় দেন। সেখানে জ্বালানি নিয়ে কথা বলবো। নাইকো মামলা নিয়ে যে পরিমাণ প্রমাণ আমাদের হাতে আছে, তাদের নেতা তারেক জিয়ার বন্ধু এবিআইয়ের কাছে যে পরিমাণ ওপেন সাক্ষাতকার দিয়েছেন সেগুলো আমরা দেখাবো। সেই সময় আমি তার (হারুনের) বক্তব্য শুনতে চাই তিনি কী বলেন। সিদ্দিরগঞ্জ পাওয়ার প্লান্টে যে পরিমাণ টাকা চুরি করেছে সেগুলোর প্রমাণপত্র আমাদের হাতে আছে। সেগুলোই ডকুমেন্টসহ সংসদের ভিডিও স্ক্রিনে তাদের দেখাবো।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, খাম্বা কোম্পানি দিয়ে তারেক রহমান যে পরিমাণ লুটপাট করেছে তার হিসাব আমাদের কাছে আছে। সেই তথ্য আমরা সংগ্রহ করেছি। সময় হলে সব বের করবো। নির্বাচন সামনে আসছে তো, প্রস্তুত থাকেন। সব দেখাবো।
তিনি বলেন, বিএনপি জোট সরকারের সময় অন্ধকারে ১৭ ঘণ্টা ছিলেন। উনি বিদ্যুতের দামের কথা বলেন। আরে অন্ধকারে থাকার যে খরচ, সেই খরচের কথা বলেন।
বিএনপির সময়ে বিদ্যুতের সিস্টেম লস কত ছিল তা কি হারুনুর রশিদ জানেন নাকি তা জানতে চান নসরুল হামিদ। তিনি বলেন, উনি ভুলে গেছেন। ৪৪ শতাংশ অপচয় ছিল। এটা দুর্নীতির মধ্যে পড়ে। তিন তিন বার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ান কি খামোখা হয়েছে তারা। এসময় পাশ থেকে একজন সংসদ সদস্য বলেন টানা পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তখন প্রতিমন্ত্রী সংশোধন করে বলেন পাঁচ বার।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন হয়। বাংলাদেশ উদাহারণ হয় বিশ্বের কাছে… সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়। আর উনারা করেছেন দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা শেষ হয়ে যাবে যদি বক্তব্য দিতে হয় তাদের ব্যাপরে। কোনও প্রয়োজন নাই চাল, ডাল, গমের কী দাম ছিল…। আরে ভাই আপনারা তো খাদ্যই দিতে পারেন নাই। গুলি করে মানুষ মেরেছেন। আবার দামের কথা জিজ্ঞেস করেন। আপনারা বিদ্যুতই দিতে পারেন নাই ১৮ ঘণ্টা। কানসাটে গুলি করে মানুষ মেরেছেন। আমার এখনও খেয়াল আছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া টঙ্গিতে বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন করতে যান। তিনি ঢাকায় পৌঁছাতে পারেননি, সেটা বন্ধ হয়ে গেছে।
এসময় বিএনপি সংসদ সদস্যদের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিয়ে সংসদে কথা না বলার অনুরোধ করেন নসরুল হামিদ বিপু। তিনি বলেন, আমি জানি না কোন মুখে আপনারা কথা বলার সাহস করেন। হয়তো লজ্জা শরম আপনাদের মাঝে নাই। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বলতে পারবো। তথ্য না শুধু, প্রমাণাদিসহ।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে মঙ্গলবার সংসদের বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।