যুদ্ধ বন্ধ করে পৃথিবীকে রক্ষা করুন: কপ-২৭ সম্মেলনে বাংলাদেশের আহ্বান

যুদ্ধ বন্ধ করুন, পৃথিবীকে রক্ষা করুন– কপ-২৭ সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। রবিবার (৬ নভেম্বর) কপ-২৭ সম্মেলনে বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে যোগদানের জন্য ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার আগে পরিবেশ বিষয়ক সাংবাদিকদের এই কথা বলেন পরিবেশবিদ ড. হাছান মাহমুদ। তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের অসহায় শিকার একটি দেশ। কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আমাদের কোনও ভূমিকা নেই। আমাদের দেশে আজ থেকে ১২-১৩ বছর আগে জনপ্রতি প্রতিবছর গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ ছিল শূন্য দশমিক দুই টন। সেটা একটু বেড়ে এখন শূন্য দশমিক ছয় টন। আর অন্যদিকে উন্নত দেশগুলোতে জনপ্রতি প্রতিবছর গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ ইউরোপে ১০ টনের বেশি, আমেরিকায় ১৫ টন বা আরও বেশি। দ্রুত উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এখন এই মাত্রা চার থেকে পাঁচ টনে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই তুলনায় আমাদের ক্ষতিকর ভূমিকা নেই। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব আমাদের ওপর অন্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি পড়ছে।

আক্ষেপ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, পুরো পৃথিবী জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, পৃথিবীর মানুষ, পৃথিবীর রাজনৈতিক নেতৃত্ব পৃথিবীকে রক্ষা করার পরিবর্তে এখন কে ন্যাটোতে যোগ দেবে, কে দেবে না সেটি নিয়েই ব্যস্ত। আমরা একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যস্ত, একে অপরকে ধ্বংস করতে ব্যস্ত। একে অপরের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা পাল্টা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ব্যস্ত। পুরো মানবজাতি যে একটি মহাদুর্যোগের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে এবং সেই কারণে পুরো মানবজাতির অস্তিত্বই যে হুমকির মুখে পড়ছে, সেটি নিয়ে মাথাব্যথা খুব কম।

ড. হাছান জানান, জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষে এবারের মূল বক্তব্য থাকবে, দয়া করে যুদ্ধটা বন্ধ করুন। একে অপরকে ধ্বংস করার পরিবর্তে সবাই মিলে পৃথিবীটাকে রক্ষা করুন। দ্বিতীয়ত, আমরা যারা জলবায়ু পরিবর্তনের অসহায় শিকার, আমাদের যেহেতু প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, প্রতিশ্রুত সাহায্য করতে হবে। আজ থেকে শুরু হওয়া এবারের বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে এই বক্তব্যগুলোই তুলে ধরবো।

আমাদের সাংবাদিকরা এক্ষেত্রে অনেক বড় ভূমিকা পালন করেছে বলে উল্লেখ করেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, পরিবেশ সচেতনতাটা আমাদের দেশে অনেক দেশের তুলনায় ভালো। এটির পেছনে সাংবাদিকদের অবদান আছে। আমাদের ক্লাইমেট জার্নালিস্ট ফোরাম দীর্ঘদিন ধরে এ নিয়ে কাজ করছে, তারা এ সম্মেলনে নিয়মিত অংশগ্রহণ করে।