জনপ্রতি বছরে মাছের চাহিদা ২১ কেজি ৯০ গ্রাম

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীবর্তমানে দেশে মাছের চাহিদা ৪০ লাখ ৫৫ হাজার টন বলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ছায়েদুল হক জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন।
রবিবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে ময়মনসিংহ ৯ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আবেদীন খানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। বর্তমানে দেশে উৎপাদিত মাছের পরিমাণ ৪৫ লাখ ৪৮ হাজার টন বলেও জানান মন্ত্রী।
মন্ত্রী আরো জানান, জনপ্রতি বছরে মাছের চাহিদা ২১ কেজি ৯০ গ্রাম। এর বিপরীতে বছরে মাছ গ্রহণের পরিমাণ ১৯ কেজি ৩০ গ্রাম।
সরকার দলীয় সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, মাছের মজুত সম্পর্কে ধারণা না থাকায় মায়ানমার ও ভারত থেকে প্রাপ্ত সমুদ্র অংশে বাণিজ্যিক ট্রলারগুলো মাছ ধরতে আগ্রহ প্রকাশ করে না।
মন্ত্রী বলেন, বঙ্গোপসাগরে বাণিজ্যিক ট্রলারগুলো সাধারণত চিহ্নিত এলাকায় মাছ ধরে থাকে। আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে সাগরে ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি হলেও জরিপ পরিচালিত হয়নি। যে কারণে নতুন করে পাওয়া সমুদ্র এলাকার মাছের মজুত সম্পর্কে কারও ধারণা নেই। এ কারণে বাণিজ্যিক ট্রলারগুলো অপরিচিত এলাকায় মাছ ধরতে আগ্রহ প্রকাশ করে না।

মন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়ায় নির্মাণাধীন গবেষণা ও জরিপ জাহাজ বাংলাদেশে আসার পর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নতুন এলাকা জরিপ করা হবে। এরপর মাছের মজুত নির্ণয় করে বাণিজ্যিক ট্রলারগুলোকে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার বিষয়ে উৎসাতি করা হবে।

সামশুল হক চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ ছায়েদুল হক বলেন, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সারা দেশের প্রান্তিক জেলেদের সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা আছে। সে জন্য বর্তমানে জেলেদের নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র বিতরণ কাজ চলমান আছে। ইতিমধ্যে ৬৪ জেলায় ১৪ লাখ ২৮ হাজার জেলেকে নিবন্ধন করা হয়েছে।

সামশুল হক চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো জানান, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ধরা বন্ধে জেলেদের ভতুর্কির আওতায় নিয়ে আসতে সরকারের পরিকল্পনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, জেলেদের আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাটকা এলাকা বিগত সময়ের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়ে ২৫ জেলার ১১২টি উপজেলায় বিস্তৃত হয়েছে। পাশাপাশি সহায়তাপ্রাপ্ত জাটকা জেলের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

এজন্য ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৪৬২ জন জেলেকে পরিবার প্রতি প্রত্যেক মাসে ৮০ কেজি হিসেবে ৫ মাসের জন্য ১ লাখ ৫৩ হাজার ৭৮৪ দশমিক ৮০ মেট্রিক টন খাদ্য সহায়তা এবং পরিবার প্রতি মাসিক ১ হাজার টাকা হিসাবে ৫ মাসের জন্য ১৯২ কোটি টাকা ২৩ লাখ ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

সামশুল হক চৌধুরীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এক মাসের মধ্যে জাহাজ আসবে। গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার জন্য কিছু প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

শরীফ আহমদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে চাহিদা পূরণের জন্য ভারত, মায়ানমার, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর, চীন, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও ইয়েমেন থেকে ৩০৪ কোটি টাকার ৯৭ হাজার ৩৮৪ টন মাছ আমদানি করা হয়েছে। আমদানি করা মাছের মধ্যে রুই, কাতল, বোয়াল, চিতল, আইর. ইলিশ, চাপিলা, রূপচাঁদা, ক্যাটফিস ইত্যাদি রয়েছে।

নজরুল ইসলাম চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ ৪৬ হাজার ২৫৭ টন মাছ রপ্তানি করেছে। এ থেকে আয় হয়েছে ৩৩৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

এম এ আউয়ালের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সমুদ্র হতে ৫ লাখ ৯৯ হাজার ৮৪৬ টন মাছ ধরা হয়েছে। সামুদ্রিক মাছ দিয়ে তৈরি করা মৎস্যজাত দ্রব্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। গত অর্থবছরে ৮৩ হাজার ৫২৪ টন মৎস্যজাত দ্রব্য রপ্তানি করে ৪ হাজার ৬৬১ কোটি টাকা আয় হয়েছে।
ইএইচএস /এপিএইচ/