বাংলাদেশ ব্যাংক ও গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিভিন্ন জটিলতার কারণে এ ঋণ তহবিল থেকে অর্থ নিতে আগ্রহী নয় পোষাক শিল্পের মালিকরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, মাত্র দুইটি কারখানা এখনও পর্যন্ত এ তহবিল থেকে ১৬ কোটি ঋণ নিয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের সাথে ২৫টি ব্যাংক ও ২১টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চুক্তি আছে এবং এসব প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ কারখানা মেরামত, আগুন ও ইলেক্ট্রিকাল নিরাপত্তার জন্য ঋণ গ্রহণ করলে বাংলাদেশ ব্যাংক সেখানে পুন-অর্থায়ন করে থাকে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি কোনো বাণিজ্যিক ঋণ প্রদান করেনা বরং পুনরায় অর্থায়ন স্কিমের অধীনে বিভিন্ন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করে।
এ বিষয়ে গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বললে তারা জানায়, ২০১৩ সালের অক্টোবর মাসে বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ -এর সদস্য, যারা কারখানা মেরামত, আগুন ও ইলেক্ট্রিকাল নিরাপত্তার জন্য ঋণ গ্রহণে আগ্রহী তাদের কাছে আবেদন আহ্বান করেন।
প্রাথমিকভাবে ২১৪টি দরখাস্ত জমা পড়ে এবং অপর্যাপ্ত তথ্য বা কাগজপত্রের জন্য ১৫৯টি বাতিল করা হয়। এরমধ্যে ১৩টি কারখানা পরবর্তীতে পর্যাপ্ত কাগজপত্রসহ পুনরায় আবেদন করে।
গণপূর্ত বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, ৬৮টি কারখানার প্রাথমিক পর্যালোচনা সম্পন্ন করা হয়েছে এবং এদের মধ্যে মাত্র ১০টি কারখানা সামগ্রিক পর্যালোচনার জন্য রাজি হয়েছে।
সামগ্রিক পর্যালোচনার মাধ্যমে তাদের কারখানার কী কী সমস্যা আছে এবং এটি ঠিক করার জন্য কত টাকা খরচ হবে তার বিস্তারিত হিসাব করা হয়।
তিনি বলেন, এই ১০টি কারখানার মধ্যে মাত্র দুইটি কারখানা উন্নয়নের জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে।
কারখানাগুলো কেনো ঋণ নিতে আগ্রহী হচ্ছেনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রায় প্রতিটি কারখানার যতটুকু অনুমোদন আছে তার থেকে তারা বেশি কন্সট্রাকশন করেছে।
উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, কোনো কারখানার অনুমোদন আছে তিন তলার কিন্তু তারা চার বা পাচঁতলা কারখানা করেছে। আবার অনুমোদন আছে সীমানা থেকে পাঁচ ফুট জায়গা ছাড়ার কিন্তু তারা ছেড়েছে তিন ফুট।
আমরা কারখানা মালিকদের জানিয়েছি যদি তারা এ বর্ধিত অংশ ভেঙ্গে ফেলতে রাজি হয়, তবে আমরা ঋণের জন্য তাদের ছাড়পত্র দেবো। কিন্তু এখনও পর্যন্ত দুইটি কারখানা মাত্র রাজি হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজিএমইএ এর সাবেক সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ঋণের সুদের হার অত্যন্ত বেশি এবং এজন্য কারখানা মালিকরা এই অর্থ নিতে আগ্রহী নয়।
ব্যাংকিং সূত্রে জানা যায়, এখাতের জন্য ঋণের সর্ব্বোচ্চ সুদের হার হচ্ছে ১০ শতাংশ।
মহিউদ্দিন অভিযোগ করেন এক্ষেত্রে কারখানার মালিকদের ডাবল বিপদ।
এদিকে কারখানার অবস্থার পরিবর্তন না করার কারণে তারা কমপ্ল্যায়েন্স সমস্যায় আছেন, আবার পরিবর্তনের জন্য তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত সুদ দাবি করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ’এটি হচ্ছে বিদায় স্টোর থেকে জিনিস কেনার মতো। মৃত ব্যক্তির দাফন-কাফন করার জন্য যতো দামই হোক জিনিস কিনতেই হবে এবং আমাদের সাথে সে রকম আচরণ করা হচ্ছে।’
এপিএইচ/