মাল্টি-স্টেক হোল্ডার সামাজিক জোটের অভিমত

প্রস্তাবিত সড়ক পরিবহন আইন চলমান অব্যবস্থাপনাকে আরও জটিল করবে

মাল্টি-স্টেক হোল্ডার সামাজিক জোটের অভিমতপ্রস্তাবিত ‘বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন আইন ২০১৬’-এ সড়ক সেবা উন্নতিতে সরকারের আন্তরিকতার প্রতিফলন ঘটেনি বলে মন্তব্য করেছে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত ‘সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কিত মাল্টি-স্টেক হোল্ডার সামাজিক জোট’। জোট বলেছে, প্রস্তাবিত আইনটি বিদ্যমান অব্যবস্থাপনা ও অসঙ্গতিকে আরও জটিল করে তুলবে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বরাবরে সোমবার দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় এ মন্তব্য করা হয়েছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান স্বাক্ষরিত ওই প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়, প্রস্তাবিত ‘বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন আইন ২০১৬’-এ সড়ক সংক্রান্ত অপরাধ নির্ণয়ে ও এই সংক্রান্ত সুবিচার নিশ্চিত করার আইনি বিধানে ব্যাপক অসঙ্গতি লক্ষ করা গেছে। খসড়া আইনটিতে অপরাধ সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়নি। সব অপরাধকে জামিনযোগ্য ও আপসযোগ্য করা হয়েছে। একই সঙ্গে সড়ক অপরাধ সংক্রান্ত গ্রেফতারি ও মোবাইল কোর্ট ক্ষমতার ব্যাপক সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়, প্রস্তাবিত আইনের ভাষায় অস্পষ্টতার সুযোগে আইন প্রযোগকারীদের সঙ্গে চালক-মালিক-যাত্রীদের একটি সাংঘর্ষিক অবস্থার সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। প্রস্তাবিত আইনটি ভিন্ন কাঠামো অনুসরণে রচনা করা হয়েছে। ফলে আদালতও এ আইনে বিচারের সময় নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হবেন বলে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

হোসেন জিল্লুর বলেন, পূর্ণাঙ্গ ও সুনির্দিষ্ট সুপারিশ প্রণয়নের জন্য প্রস্তাবিত আইনটি গভীরভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে  আমরা আইনটির ত্রুটি এবং দূর্বলতা সনাক্ত করে উপযুক্ত সুপারিশমালা আপনার (মন্ত্রী) বরাবর দাখিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ কাজ সময় সাপেক্ষ বিধায় মার্চ মাসের সুবিধাজনক সময়ে আমরা সুপারিশ এবং মতামত প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

জানা গেছে, মটরযান নিয়ন্ত্রণের পুরনো আইন সংশোধন করে সম্পূরক দুটি নতুন আইন—‘বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৫’ এবং ‘বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন আইন-২০১৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ চলছে। এর মধ্যে ‘বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৫’-এর কিছু দুর্বলতা চিহ্নিত করে যুগোপোযোগী পরামর্শ উপস্থাপন করে জোট। এরপর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন আইন-২০১৬ নিয়েও বিশেষজ্ঞ ও অন্যান্য স্টেক-হোল্ডারদের নিয়ে আলোচনা করেন বিশেষজ্ঞরা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার সেতুমন্ত্রী বরাবরে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।

‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৬’-এর খসড়াটি গত ২৪ জানুয়ারি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ওয়েবসাইটে মতামতের জন্য প্রকাশ করা হয়। তখন মতামতের জন্য সময় দেওয়া হয়েছিল মাত্র ছয়দিন। পরে সংশ্লিষ্টদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ সময় ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়।

/ওএফ/এমএনএইচ/