গত ১৩ ফেব্রুয়ারি কানাডার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১১টায় টরন্টোর ৪২৭-এর দুনদাস স্ট্রিট ওয়েস্টে দুর্ঘটনায় নিহত তিন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর দুজন আরিয়ান আলম ও শাহারিয়ার খানের মরদেহ দেশে নিয়ে আসার কার্যক্রম চলছে। ইতোমধ্যে তাদের লাশ নিয়ে আসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের দূতাবাসে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে নিহত আরিয়ানের পরিবার।
বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নিহত আরিয়ান আলমের বড় বোন সানজিদা আলম।
তিনি বলেন, ‘সব ঠিকঠাক থাকলে ৪ দিনের মধ্যে আরিয়ান ও তার সহপাঠী শাহারিয়ার খানের মৃতদেহ বাংলাদেশে পৌঁছাবে।’
তবে নিহত আরেকজন অ্যাঞ্জেলা বাড়ৈর মৃতদেহ দেশে কখন পৌঁছাবে তা এখনও জানা যায়নি।
এছাড়া এ ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় সেখানকার স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নন্দিত সংগীতশিল্পী কুমার বিশ্বজিতের একমাত্র ছেলে নিবিড় কুমার। সেও কানাডায় পড়াশোনা করে। খবরটি পেয়েই বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে কানাডার উদ্দেশে উড়াল দেন কুমার বিশ্বজিৎ।
এর আগে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি কানাডার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১১টায় আরিয়ান ও তার তিন বন্ধু গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়েন। কিন্তু তার পরিবার জানতে পারে বাংলাদেশ সময় ১৪ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার পর। আরিয়ানের বোন সানজিদা আলমকে তার (আরিয়ান) এক বন্ধু ফোনে দুর্ঘটনার কথা জানান। এরপর থেকে পরিবার যোগাযোগের চেষ্টা করে যাচ্ছে।
নিহত আরিয়ানের বাবা এটিএম আলমগীর জানান, দুর্ঘটনার পর তাদের সেন্ট মাইকেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একবারই কথা হয়েছে তার। এরপর আর যোগাযোগ করতে পারেননি। আরিয়ানের বড় বোন যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। ভাইয়ের খবর শুনে তিনি কানাডায় গেছেন।
এদিকে বাড়ির ছোট ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে রাজধানীর নাখালপাড়ায় আরিয়ানদের ১৯ নম্বর বাড়িতে নেমে আসে শোকের ছায়া। ছেলেকে হারিয়ে মা রেজিনা সুলতানা পলি শোকে কাতর হয়ে পড়েছেন।
স্বামী-স্ত্রী দুজনের কেউ কোনও খাবার মুখে নিচ্ছেন না। বাসায় আসা স্বজনরা তাদের সান্ত্বনা দিয়ে যাচ্ছেন। তবে মায়ের কান্না কিছুতেই থামছে না। বাবা এটিএম আলমগীর ছেলেকে নিয়ে নিজের স্বপ্নের কথা তুলে ধরেন, ‘স্বপ্ন ছিল উচ্চশিক্ষা শেষ করে আমার ব্যবসার হাল ধরবে আরিয়ান। এখন বাড়ি ফিরবে লাশ হয়ে।’
আরিয়ান দেশে প্রথমে ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল ‘মাস্টার মাইন্ড’, পরে অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে পড়াশোনা করে। ‘ও’ লেভেল শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর কানাডার উদ্দেশে দেশ ছাড়ে। তার ইচ্ছা ছিল সিএ পড়ে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হওয়ার। সেই উদ্দেশ্যে শুরুতে ‘ব্রেইমার কলেজ’ থেকে ডিপ্লোমা করে চলতি বছর ব্যবসায় শিক্ষা নিয়ে টরন্টোর হাম্বার কলেজে ভর্তি হয়। স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই মাত্র ২১ বছর বয়সে ঢাকা থেকে ১২ হাজার কিলোমিটার দূরে এখন লাশ হলেন আরিয়ান।