যেকোনও উপায়ে নির্বাচনে জেতার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রি. জেনারেল (অব.) আহসান হাবিব খান। তিনি বলেন, সবাইকে নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেওয়ার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। পরাজয় মেনে নেওয়ার প্রবণতা থাকতে হবে।
জাতীয় ভোটার দিবস ২০২৩ উপলক্ষে দেওয়া এক লিখিত প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।
আহসান হাবিব খান বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশন শুধু ভালো নির্বাচন করবো- কিন্তু যারা পরাজিত হবেন তারা সমালোচনায় মুখর হবেন তা সমীচীন নয়। নির্বাচনের গুণগত সংস্কৃতি বিকাশে ভোটার, দল, অংশীজনসহ সবার সহযোগিতা দরকার।
ভয়ভীতিহীন নির্বাচন ও নির্বিঘ্ন পরিবেশ করতে নির্বাচন কমিশন সর্বোচ্চ তৎপর দাবি করে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, নিজেদের মেয়াদের প্রথম বছরে এ পর্যন্ত যত নির্বাচন হয়েছে তাতে যেখানে বাধা, অনিয়মের অভিযোগ এসেছে সেখানেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ইভিএমের নির্বাচনে ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার পথ প্রসারিত করেছে দাবি করে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত বর্তমান ইসির অধীনে পাঁচ শতাধিক নির্বাচন হয়েছে; যার সিংহভাগই ইভিএমে। এসব ভোটে নির্ভরযোগ্য কোনও অভিযোগ তো আসেইনি এবং সংক্ষুব্ধ কেউ আদালতেরও দ্বারস্থ হয়নি।
ভোটার, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, নির্বাচনি এজেন্ট, গণমাধ্যমকর্মীসহ সংশ্লিষ্টদের ‘সেফটি’র বিষয়ে কমিশন বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে আহসান হাবিব খান বলেন, “আমরা সারা বছরই ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে কাজ করে যাচ্ছি। হালনাগাদে নির্ধারিত কর্মসূচির বাইরেও সারা বছরই যোগ্যরা ভোটার হতে পারছেন। ভোটার হওয়ার পাশাপাশি তাদের এনআইডি সেবাও সহজীকরণে সব ধরনের পদক্ষেপ রয়েছে। প্রত্যেক ভোটারের নাগরিক অধিকার তার ভোটাধিকার। এ অধিকার রক্ষায় আমাদের দিক থেকে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিয়েছি এবং তা অব্যাহত থাকবে।”
ভোট নিয়ে কল্পনাপ্রসূত কোনও শঙ্কার বশবর্তী হয়ে নির্বাচন বর্জনের সংস্কৃতিও কাঙ্ক্ষিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সব দলকে ভোটে আসার বিষয়ে ইসির আহ্বান বরাবরই অব্যাহত থাকে জানিয়ে এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, ভোটাধিকার মুখের কথা নয়, এটাকে অর্থবহ করতে আমাদের সব ধরনের উদ্যোগ, সর্বোচ্চ সদিচ্ছা থাকবে। আমরা চাই দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনসহ সব নির্বাচন হোক অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক”।
প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ভোট প্রত্যাশা করে তিনি বলেন, গোলযোগ, সহিংসতা পরিহার করতে হবে; নির্বাচন কমিশনও অনিয়ম ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হলে ভোটের মাঠেও ভারসাম্য থাকবে। ভোটে সবার জন্য সমান সুযোগ থাকবে। ভোটাররা উৎসবমুখরভাবে কেন্দ্রে আসবেন, নিরাপদে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে ঘরে ফিরে যাবেন।
তিনি বলেন, আমরা সবসময় আশ্বস্ত করতে চাই আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিয়ে পালন করবো। পাশাপাশি সবার সহযোগিতাও কামনা করি। ভালো নির্বাচনও উপহার দিতে সক্ষম হবো।
ভোটকেন্দ্রে আসতে ভোটারদের বাধা, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী, নির্বাচনি এজেন্টদের বাধা-বিপত্তিতে শাস্তি বাড়ানোর সুপারিশও করেছে এ কমিশন।