‘আমাদের লক্ষ্যমাত্রা উচ্চাকাঙ্ক্ষী, কিন্তু এতে তো আপত্তি নেই’

বাংলাদেশ প্রায় ১৭ কোটি জনগোষ্ঠীর দেশ। এখানে নিজস্ব অর্থনৈতিক বাজার সৃষ্টি হচ্ছে এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ নবম বৃহত্তম ভোক্তা বাজারে পরিণত হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। আশা করি, যুক্তরাজ্য বা জার্মানির মতো প্রতিষ্ঠিত বাজারগুলোকে কিংবা বর্তমান প্রবৃদ্ধির ভিয়েতনাম বা থাইল্যান্ডকে ছাড়িয়ে যেতে বাংলাদেশ সক্ষম হবে। আমি জানি যে, এটা একটু বেশি উচ্চাকাঙ্ক্ষা। কিন্তু উচ্চাকাঙ্ক্ষা করতেতো আপত্তি নেই। সবসময় আমাদের একটা ভালো লক্ষ্য থাকবে।‘

শনিবার (১১ মার্চ) সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ বিজনেস সামিট ২০২৩’ উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।

ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র (এফবিসিসিআই) সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এতে সহায়তা করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (বিডা)।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৫ সাল নাগাদ আমাদের ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত ধনিক শ্রেণির সংখ্যা হবে ৩ কোটি ৪০ লাখ। ২০৪০ সালের মধ্যে আনুমানিক মাথাপিছু জিডিপি দাঁড়াবে ৫ হাজার ৮৮০ মার্কিন ডলার। কৌশলগত ভৌগলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ ৩০০ কোটি মানুষের আঞ্চলিক বাজারের কেন্দ্রস্থল হতে পারে। যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রাচ্য এবং পাশ্চাত্যের সেতু বাংলাদেশ বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে।’

11-03-23-PM_Bangladesh Business Summit-7

এসময় সম্মেলনে যোগ দেওয়া ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে ব্যবসার অফুরন্ত সুযোগ রয়েছে। আমাদের দেশে ৬৮ দশমিক ৪ দশমিক মানুষ কর্মজীবী বয়স বিভাগে অবস্থান করছে। আমাদের রয়েছে সহজেই প্রশিক্ষণযোগ্য একটি তরুণ জনগোষ্ঠী; যারা বেসরকারি খাতে বিনিয়োগে অবদান রাখতে সক্ষম। বর্তমানে ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী প্রায় ১১ কোটি ৪০ লাখ নাগরিক কর্মসংস্থানের মাধ্যমে যে কোনও বিনিয়োগে মূল্যবান অবদান রাখতে প্রস্তুত।’

এসময় ব্যবসায়ী নেতাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উচ্চ আয়ের উন্নত, সমৃদ্ধ এবং উদ্ভাবনী স্মার্ট দেশ হিসেবে বিনির্মাণের জন্য আমাদের অভিযাত্রায় যুক্ত হতে আমি আপনাদের উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশি, সৌদি আরবের বাণিজ্যমন্ত্রী ড. মাজিদ বিন আবদুল্লাহ আল কাসাবি, ভুটানের শিল্প, বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী কর্মা দরজি, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার উপ-মহাপরিচালক রাষ্ট্রদূত জিয়াংচেন ঝাং প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।

11-03-23-PM_Bangladesh Business Summit-17

জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র ও প্রদর্শিত হয়।