সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ভাগ্যোন্নয়নে শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট আইন হচ্ছে

সুবিধাবঞ্চিত, দারিদ্র্যপ্রীড়িত, ভাগ্যাহত ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু ও কিশোরদের জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশ গ্রহণের উপযোগী করে তুলতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নিজ প্রচেষ্টা ও শ্রমে ভাগ্যোন্নয়নে প্রয়াসী শিশুদের শিক্ষার ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যের পরিচর্যা নিশ্চিত করতে একটি আইনি কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট আইনের খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে।

সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আইনটির খসড়া প্রকাশ করে অংশীজনসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে মতামত চেয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ এপ্রিল) এ বিষয়ে মতামত দেওয়ার শেষ সময়।

খসড়া আইন অনুযায়ী শিশু কল্যাণ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সমান বেতন ভাতা পাবে।

শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য যেসব কার্যক্রম পরিচালনা হবে সেগুলো হলো–সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত, দরিদ্র শিশু কিশোরদের প্রাক-প্রাথমিক হতে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ; জাতীয় কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের উপযোগী করার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন করার জন্য প্রচারণামূলক কার্যক্রম গ্রহণ; প্রিভোকেশনাল প্রশিক্ষণ প্রদান; মেধাবী শিশু কিশোরদের বৃত্তি প্রদান এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উপবৃত্তি নির্দেশিকার আলোকে উপবৃত্তি প্রদান।

খসড়া আইন অনুযায়ী সরকার প্রদত্ত অনুদান; সরকার প্রদত্ত জাতীয় বাজেট হতে প্রাপ্ত অর্থ; সরকারের কাছ হতে প্রাপ্ত সাধারণ ও বিশেষ ঋণ; দাতা দেশ, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান হতে প্রাপ্ত অর্থ (গ্রান্টস); বিভিন্ন অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানের (ব্যাংক, বীমা ইত্যাদি) আর্থিক সহায়তা; কোনও তফসিলি ব্যাংক বা অন্য কোনও প্রতিষ্ঠানে তহবিলের গচ্ছিত বা জমাকৃত অর্থ হতে প্রাপ্ত সুদ, মুনাফা বা আয়; সরকারি অনুমোদন সাপেক্ষে শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট নামীয় লটারি বিক্রির মাধ্যমে এবং সমাজের বিত্তবান, শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের নিকট হতে বা অন্য কোনও উৎস হতে প্রাপ্ত অনুদানের অর্থে ট্রাস্ট পরিচালিত হবে।

১৯৮৯ সালে রাষ্ট্রপতির অনুমোদিত ট্রাস্ট গঠনের সার সংক্ষেপ ও ১৯৯২ সালে সরকার অনুমোদিত শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের ধারাবাহিকতায় এ শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট আইন প্রণীত হচ্ছে।

প্রস্তাবিত খসড়া আইনে একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠনের কথা বলা হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর সভাপতিত্বে গঠিত ১১ সদস্য বিশিষ্ট এই বোর্ডে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিরা থাকবেন।

শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের অধীন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বেতন ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা প্রাপ্য হবেন। শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন স্কেল ও ভাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য প্রযোজ্য স্কেল ও ভাতা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।

সরকারের পূর্বানুমতি সাপেক্ষে ট্রাস্টি বোর্ড প্রয়োজনে নতুন বিদ্যালয় স্থাপন করতে পারবে। তবে এ ক্ষেত্রে এই আইনের অধীনে বোর্ড একটি নীতিমালা প্রণয়ন করবে।