গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে যা করণীয় তাই করবো: মো. সাহাবুদ্দিন

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, একটি নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য একজন রাষ্ট্রপতি হিসেবে আমার যা কিছু করার আমি তা করবো। রবিবার (১৬ এপ্রিল) রাজধানীর গুলশানে তার লেখা ‘এগিয়ে যাও বাংলাদেশ’ বইটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ... সবাই মুখে মুখে বলছি নির্বাচন খুব ক্রুশিয়াল হবে। কিন্তু আমি মনে করি কোনও ক্রুশিয়াল নয়। দেশে একটি সংবিধান আছে। কারও মাথা ঘামানোর প্রয়োজন নেই।

তিনি আশা করেন, দেশের সংবিধান অনুযায়ী স্বাধীন নির্বাচন কমিশন (ইসি) একদম তাদের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা প্রয়োগ করে সংবিধানের আলোকে একটি নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক এবং গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে সক্ষম হবে। সেখানে রাষ্ট্রপতি ও একজন সুপ্রিম কমান্ডার হিসেবে আমার যেটুকু দায়িত্ব এই নিরপেক্ষতাটাকে বজায় রাখার জন্য, সমস্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য, যতটুকু প্রয়োজন করবো।

তাঁকে রাষ্ট্রপতি হিসাবে মনোনীত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলী ও কার্যনির্বাহী কমিটিসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

আজ দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বইটি আনুষ্ঠানিকভাবে লেখক নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সাহাবুদ্দিনকে হস্তান্তর করা হয়। নিজের বই সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন ঘটনাবহুল প্রবন্ধ সমৃদ্ধ বই 'এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ' গ্রন্থের পাতায় পাতায় বিধৃত হয়েছে শৈশব থেকে শুরু করে পুরো জীবনের কথা; সংগ্রাম, রাজনীতি, মুক্তিযুদ্ধ, জেলজীবন, কর্মজীবন, সংসার-জীবন, চিন্তাদর্শ তথা সবকিছুর পরিচয়।

২০৪ পৃষ্ঠার এই বইটিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে তাঁর দুষ্প্রাপ্য ও ঐতিহাসিক কিছু আলোকচিত্র  যুক্ত করা হয়েছে।

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি বলেন, এতে তাঁর ব্যক্তিজীবন এবং সমকালীন রাজনৈতিক ঘটনাবলি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ তথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সেগুলোর একটা ব্যাপকভিত্তিক পরিচয় উঠে এসেছে।

বইটি প্রকাশের জন্য আগামী প্রকাশনী ও গবেষকসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, এছাড়া বইটিতে রয়েছে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম, রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে গৃহীত নানা পদক্ষেপ, ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন, করোনা সংকট মোকাবিলা, পদ্মা সেতু ও মেট্রোরেল নির্মাণ, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাস্তবায়ন, স্মার্ট বাংলাদেশ কর্মসূচিসহ বহুবিধ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং রাষ্ট্রনেতা হিসেবে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠার বিষয় নিয়ে লেখা সাতটি কলাম।

২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মো. সাহাবুদ্দিন। আগামী ২৪ এপ্রিল সকাল ১১টায় বঙ্গভবনে তার শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে। সূত্র: বাসস।