সেনাপ্রধান জেনারেল শফিউদ্দিনের ভারত সফর

প্রতিরক্ষা খাত সম্প্রসারণে আলোচনা করবেন দুই সেনাপ্রধান

বাংলাদেশের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদ বুধবার (২৬ এপ্রিল) তিন দিনের ভারত সফরে এসেছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে তার সফর অবশ্য শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার (২৭ এপ্রিল) থেকে।

দিল্লিতে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, ২৯ এপ্রিল (শনিবার) ঢাকায় ফিরে যাওয়ার আগে জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদ ভারতের সর্বোচ্চ সামরিক ও বেসামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করবেন বৃহস্পতিবার। প্রতিরক্ষা খাতে দুই দেশের সহযোগিতাকে কীভাবে আরও সম্প্রসারিত করা যায়, তা নিয়েই তাদের মধ্যে আলোচনা হবে।

ভারত ও বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে ঐতিহাসিক সামরিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই। ২০১৭ সালে দুই দেশের মধ্যে ‘প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হওয়ার পর সেই সম্পর্ক এক অন্য উচ্চতায় উন্নীত হয়েছে। তারপর থেকেই দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানদের পারস্পরিক সফর অনেক নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদের বর্তমান সফরও অনুষ্ঠিত হচ্ছে সেই ধারাবাহিকতাতেই।

এর আগে বুধবার দিল্লিতে এসে নামার পর সেদিন সন্ধ্যায় জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদ দেখা করেন ভারতের চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহানের সঙ্গে। পদাধিকার বলে জেনারেল চৌহান ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর তিনটি শাখারই শীর্ষে, মাস কয়েক আগে তিনি দুর্ঘটনায় প্রয়াত জেনারেল বিপিন রাওয়াতের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে জেনারেল শফিউদ্দিনের আনুষ্ঠানিক সফর শুরু হয় দিল্লিতে ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালে ভারতীয় বিমানবাহিনীর শহীদ যোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের মধ্যে দিয়ে। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দফতর যেখানে, সেই সাউথ ব্লকের সুপ্রশস্ত সবুজ লনে তাকে গার্ড অব অনারে অভ্যর্থনা জানানো হয়।

ভারতের ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালে জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন

এরপর তিনি আলোচনায় বসেন তার ভারতীয় কাউন্টারপার্ট তথা ভারতের চিফ অব আর্মি স্টাফ জেনারেল মনোজ পান্ডের সঙ্গে। দুই দেশের মধ্যে যে ‘সর্বাত্মক স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ আছে, তার আওতাতেই সেই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, সামরিক প্রশিক্ষণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, তা নিয়েও দুই সেনাপ্রধান কথা বলেন।

জেনারেল আহমেদ এরপর একে একে দেখা করেন চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান (দ্বিতীয়বার), ভারতের নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল হরি কুমার, বিমানবাহিনীর উপপ্রধান এয়ার মার্শাল এ পি সিং, ভারতের প্রতিরক্ষা সচিব গিরিধর আরামানে এবং পররাষ্ট্র সচিব বিনয় মোহন কাটরার সঙ্গে।

দিল্লিতে নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে জেনারেল আহমেদের এসব হাই-প্রোফাইল বৈঠকের মধ্য দিয়েই স্পষ্ট বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের সফরকে ভারত কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে ভারতে যেসব প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বানানো হচ্ছে, সেই ইকো-সিস্টেম নিয়েও সফররত সেনাপ্রধানের জন্য একটি ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন বিভাগ (ডিডিপি) ও আর্মি ডিজাইন ব্যুরো।

এ ছাড়া জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা অভিযানে পাঠানো সেনাদের প্রশিক্ষণের জন্য দুই দেশ যাতে পরস্পরকে সাহায্য করতে পারে, সেই লক্ষ্যেও একটি সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়েছে। তাতে সই করেছে ভারতের পক্ষে সেন্টার ফর ইউনাইটেড নেশনস পিসিকিপিং (সিইউএনপিকে) আর বাংলাদেশের তরফে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস সাপোর্ট অপারেশনস (বিপসট)।

সফরের শেষ পর্যায়ে জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদ চেন্নাইয়ের অফিসার্স ট্রেনিং একাডেমিতে ক্যাডেটদের পাসিং আউট প্যারেডে পরিদর্শনকারী অতিথির (রিভিউয়িং অফিসার) ভূমিকায় থাকবেন। সেখানে তিনি একাডেমির মিউজিয়াম ঘুরে দেখবেন, কথাবার্তা বলবেন ক্যাডেটদের সঙ্গেও। এরপর চেন্নাই থেকেই তিনি ২৯ এপ্রিল রওনা হবেন ঢাকার পথে।