৪৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা শুধু ‘সংখ্যা’ নয়

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপদাহ হচ্ছে বাংলাদেশে। এ বছর তাপদাহে ৪৩ ডিগ্রি পর্যন্ত তাপমাত্রা পরিলক্ষিত হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এরকম তাপদাহ আগামী মাসে এবং সামনের বছরগুলোতে দেখা যাবে। তাপমাত্রা ৪০ বা ৪৫ ডিগ্রি পর্যন্ত পৌঁছানো শুধুমাত্র কোনও ‘সংখ্যা’ নয়—একসঙ্গে মানুষের স্বাস্থ্য, জীবিকাসহ আরও অনেক বিষয় জড়িত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাপদাহ মোকাবিলায় বাংলাদেশের আরও সক্ষমতা অর্জনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে তারা মনে করেন।

মঙ্গলবার (২ মে) আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা গ্লোবসাইট ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি আয়োজিত ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত ও সহনশীলতা’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা জানান যে এটি সুশাসনের সঙ্গে জড়িত এবং বিষয়টিকে মানবাধিকার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখা উচিৎ।

একশনএইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, আমরা পরিসংখ্যানের কথা বলছি না, আমরা মানুষের কথা বলছি।

তিনি বলেন, তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি বা ৪৫ ডিগ্রি শুধু একটি সংখ্যা নয়, এর সঙ্গে মানুষের স্বাস্থ্য, জীবিকা, কাজের ধরনসহ অনেক কিছু জড়িত। এ বছরের তাপদাহের কারণে অনেক লোক অসুস্থ হয়েছে এবং এ প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। প্রচণ্ড গরমের কারণে মানুষের জীবিকাতে সমস্যা হচ্ছে এবং তাদের আয়-উপার্জনে প্রভাব পড়ছে।

বন্যা বা ঝড়ের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আগাম সতর্ক সংকেত দিতে সক্ষম হলেও তাপদাহ কীভাবে মোকাবিলা করতে হবে সেটি আমরা জানি না বলে তিনি জানান।

 

আটকে পড় জনগোষ্ঠী

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও গ্লোবসাইটের কান্ট্রি এডভাইজার মো. শহীদুল হক বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। কিন্তু কিছু জনগোষ্ঠী সামর্থ্য ও অন্য কারণে অন্য জায়গায় যেতে পারে না এবং ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে থেকে যেতে বাধ্য হয়।

তিনি বলেন, আবার অনেকে মনে করে—ভবিষ্যতে পরিস্থিতি ভালো কিন্তু বাস্তবে তাদের অবস্থা আরও খারাপ হয়।

ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের বিষয়টি ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজের’ মাধ্যমে দেখা দরকার এবং আন্তর্জাতিক দর কষাকষিতে এ বিষয়টি আরও ভালো করে আলোচনার প্রয়োজন আছে বলে তিনি জানান।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির প্রফেসর মো. জাকারিয়া বলেন, মানুষ অতীতেও এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় অভিবাসন করেছে, কিন্তু বর্তমানে যে কারণে হচ্ছে সেটি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

বর্তমানে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংখ্যা আগের থেকে অনেকগুণ বেড়েছে এবং অনেকক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার জন্য প্রথাগত স্থানীয় পদ্ধতি ঠিকমতো কাজ করছেনা বলে তিনি জানান।

অন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার ন্যাশনাল প্রোগ্রাম অফিসার মো. আশফাকুর রহমান খান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় মানুষের দক্ষতা বহুমুখীকরণের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ বাজারের চাহিদা বিবেচনা না করে নেওয়া হয়।

উদাহরণ হিসাবে তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গে চরাঞ্চলে কুমড়া চাষের জন্য উৎসাহিত করা হলেও সেখানকার বাজারে ওই পণ্যের তেমন চাহিদা নেই। ফলে ওই বহুমুখীকরণ তেমন কাজে আসছে না।