ভবন নির্মাণে যথাযথ নকশা করতে হবে: তাজুল ইসলাম

আমাদের দেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল, কিন্তু তার এফেক্ট যেন না আসে সে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সেজন্য ভবন নির্মাণে প্রোপার ডিজাইন (যথাযথ নকশা) করতে হবে। আবার সে ডিজাইন যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কিনা সেটাও রেগুলেট করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

সোমবার (১৫ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি আয়োজিত ‘ভূমিকম্প ঝুঁকিতে ঢাকা, গণমাধ্যমের করণীয়" শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সেমিনারে তাজুল ইসলাম বলেন, রাজউকের কাছে কেউ ডিজাইন নিয়ে গেলে সেটা অনুমোদন করা হয়। মালিক চাইলে বিল্ডিং বানাতেই পারেন। কিন্তু আমার মতামত থাকবে, যে বিল্ডিং বানাবেন সেটা যেন সার্টিফাইড হয়। যেন কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে তাকে দায়ী করা যায়।

তিনি বলেন, আমাদের এখানে কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে কাকে দায়ী করা হবে সেটা নিশ্চিত করা যায় না। যেমন রানা প্লাজা যখন ভাঙ্গলো, তখন তার মালিককে গ্রেফতার করা হলো কিন্তু সেই ভবনের নির্মাণ কোম্পানিকে ধরা হয়নি কেন?

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেছেন, বেশি লাভের আশায় অনেক প্রতিষ্ঠান রাজউক অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ করেন না। নির্মাণকালীন কাজ তদারকির জন্য রাজউক কর্তৃপক্ষ তদারকি কমিটি নিয়োগ করতে পারে। নির্মাণকালীন সকল নিয়ম যথাযথ পালন হয়েছিল কিনা তার জন্য দায়ী থাকবে এ কমিটি, তদারকি সাপেক্ষে তারা সনদ প্রদান করবেন।

তিনি আরও বলেন, প্রত্যেকটা ভূমিকম্পেরই ইফেক্ট অ্যান্ড পোস্ট এফেক্ট আছে। সেজন্য প্রতিকার ব্যবস্থা রাখতে হবে। আমরা প্রতিবারই ভূমিকম্প প্রতিরোধী মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করার কথা বলি। কিন্তু ১২০ জন মানুষের জন্য যদি প্ল্যান করা হয়, সেখানে মানুষ থাকে তার চাইতেও অনেক বেশি। কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে উদ্ধার করা যায় না, প্ল্যানের তুলনায় রাস্তা হয় অনেক সরু এবং ছোট।

মন্ত্রী বলেন, ভূমিকম্প বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর প্রভাব এবং প্রতিকার ব্যবস্থা নিয়ে যত বেশি লেখা হবে, ততো বেশি মানুষ তা জানতে পারবে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজউকের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান মিয়া। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ বুয়েটের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারী।

ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটির সভাপতি মুরসালিন নোমানির সভাপতিত্বে সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সাবেক মহাপরিচালক আলী আহমদ খান, স্থপতি ইকবাল হাবিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক জুয়েল মিয়া প্রমুখ।