অবশেষে বাংলা ৪ ফাল্গুন ১৩৬২ সালে (১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৬) উর্দুর সঙ্গে বাংলাকেও রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করতে বাধ্য হয় সরকার। এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে উঠে আসে আন্দোলনের চূড়ান্ত বিজয়।
এভাবে বিশ্বের নানা দেশেই ভাষার অধিকারের লড়াই হয়েছে। আবার স্বাধীন দেশের মধ্যে ভিন্ন ভাষার মানুষের মাতৃভাষার লড়াইতো সবসময়েরই। নানা দেশে যে আন্দোলনগুলো হয়েছে, সেগুলোর কোনওটা ছিল অহিংস, কোনওটা ছিল সহিংস।
একুশে ফেব্রুয়ারি এখন দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক দিবসে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘ দিনটিকে স্বীকৃতি দিয়ে ১৯৯৯ সালে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এর পর থেকে পৃথিবীজুড়ে দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে।
বর্তমানে ভারতে ২২টি ভাষা সরকারের তালিকাভুক্ত এবং ৪টি ভাষাকে ঐতিহ্যবাহী ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। যদিও ভারতে মোট ভাষার সংখ্যা শ’খানেক। কেন্দ্রীয়ভাবে অফিস আদালতে হিন্দি এবং ইংরেজি ব্যবহৃত হয়।
এছাড়া আসামেও ভাষার প্রশ্নে আন্দোলন হয়েছিল ১৯৬১ সালে। তৎকালীন প্রাদেশিক সরকার কেবল অহমীয় ভাষাকে আসামের একমাত্র সরকারি ভাষা করার বিরুদ্ধে আন্দোলনটি হয়েছিল। পরে অবশ্য বাঙলাকেও স্বীকৃতি দেয় প্রাদেশিক সরকার।
আমেরিকায় অনেক মাতৃভাষার মৃত্যু হয়েছে। গত শতাব্দীর ষাট-সত্তরের দশকে নাগরিক অধিকার আন্দোলনের সময় এই নেটিভ আমেরিকান ভাষা রক্ষার ব্যাপারটিও আসে। মূল প্রস্তাবনার দীর্ঘ ২০ বছর আন্দোলন এবং আলোচনার পর ১৯৯০ সালে ৩০ অক্টোবর আমেরিকার বিভিন্ন নেটিভ/আদি/স্থানীয় ভাষা রক্ষা এবং সংরক্ষণের জন্য একটি আইন পাস হয়।
কানাডাতে, বিশেষত কানাডার পুর্ব অংশের অঙ্গরাজ্য কুইবেকে ভাষার স্বাধীনতা চেয়ে আন্দোলন শুরু হয়েছে কয়েকবারই। লাটভিয়াতে লাটভিয়ান-রাশিয়ার ভাষার মধ্যকার প্রতিযোগিতার কারণে, রাশিয়ান ভাষার স্বীকৃতির বিষয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। গণভোটে লাটভিয়ানরা কয়েকশ’ বছরের প্রধান রুশ ভাষাকে সরকারি ভাষা হিসেবে প্রত্যাখ্যান করে।
/এজে/