বাংলাদেশ প্রাইমারি এডুকেশন অ্যানুয়াল সেক্টর পারফরমেন্স রিপোর্ট(এএসপিআর) অনুসারে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতেই শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ২৫ হাজারের বেশি। আর শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করা সোসাইটি অব দি ডেফ অ্যান্ড সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ ইউজার্স এর তথ্য অনুযায়ী দেশে শ্রবণ প্রতিবন্ধী মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ। ভাষাবিদরা বলছেন, এত সংখ্যক মানুষ যে ভাষায় মনের ভাব প্রকাশ করেন সেটা শেখার ক্ষেত্রে আমরা যারা নিজেদের স্বাভাবিক দাবি করি তাদের এক ধরনের অবহেলা আছে।
ষোড়শ শতকে ইউরোপের দেশগুলোতে শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ইশারা ভাষার বিকাশ ঘটে। অধিকাংশ ইশারা ভাষা সমাজের মধ্য থেকেই এবং নিজস্ব অঞ্চলের ভাষা রীতির চলন অনুযায়ী গড়ে ওঠে। এটি নির্ভর করে গতানুগতিক ধারণা, হাতের অবস্থান এবং আঙুলের কাজের ওপর। হাতের অবস্থান যার যার ভাষার বর্ণমালাগুলো চিহ্নিত করে।
শিশু কথা বলতে শেখে আশেপাশের মানুষকে অনুকরণের মাধ্যমে। শ্রবণ প্রতিবন্ধীরা শুনতে পায় না বলে উচ্চারণ শেখে না। এ কারণেই যোগাযোগের জন্য তাদের ইশারা ভাষার দরকার হয়। এবং এর প্রাথমিক পাঠ ‘সাধারণ সুস্থ মানুষের’ও নিতে হবে। উল্লেখ্য, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ১৯৯৪ সালে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ জাতীয় বধির ফেডারেশনের যৌথ উদ্যোগে বাংলা ইশারা ভাষার অভিধান প্রকাশ করা হয়।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক রাজীব মীর বলেন, মনে করুন- মানুষ হিসেবে আমরা প্রতিনিয়ত সবাই ইশারা ভাষা ব্যবহার করছি। ভাষা হলো যোগাযোগের মাধ্যম। তাই যোগাযোগের বাহন হিসেবে ভাষার ধরন এক হবে এমন নয়। বড় কথা হলো- শব্দ ব্যবহার বা কথা বলা। সৃষ্টির পূর্বে মানুষ শব্দ করতো কিন্তু শব্দ ব্যবহার করতো না। যদিও ইশারা বা ইঙ্গিত সেই প্রথম থেকে আজও যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে মানুষ চালু রেখেছে।
তিনি আরও বলেন, কথা বলতে না পারা বা শুনতে না পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ইশারা ভাষা যোগাযোগের অপরিহার্য মাধ্যম হলেও আমরা বিষয়টাকে সম্মানের সহিত বিবেচনা করি বলে মনে হয় না। শুধু মূক বা বধির হওয়া মানেই কিন্তু কোনও ব্যক্তি অযোগ্য বা বাতিল বলা চলে না। অথচ আমরা নিজেরা তাদের কতটুকু গুরুত্ব দেই। সার্বিক উন্নয়ন ও মানবিক উন্নয়নের জন্য সংস্কারমুক্ত হয়ে মূক ও বধিরদের ভাষা রপ্ত করে ওদেরকেও জাতীয় উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে। পারিবারিক ও সামাজিকভাবে তাদের মনোভাব বুঝে একসঙ্গে কাজ করতে পারলে দেশের উন্নয়ন এবং মানবিক উন্নয়ন দুটোই সমান তালে এগুতে থাকবে বলে বিশ্বাস করি।
/এএইচ/