৪৬৫২ কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়লো স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে

স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ৪ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই খাতে ৪৯ হাজার ৩৪২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা ২০২২-২৩ অর্থবছরে ছিল ৪৪ হাজার ৬৯০ কোটি টাকা।

বৃহস্পতিবার (১ জুন) জাতীয় সংসদ ভবনে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের বাজেট উত্থাপনকালে ডিজিটাল প্রেজেন্টেশনে এসব কথা জানান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘গ্রাম-শহরের ব্যবধান হ্রাস করে দেশের সব নাগরিকের জন্য সমান সুবিধা নিশ্চিত করা ছিল আমাদের সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার। এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আমরা ‘আমার গ্রাম-আমার শহর’সহ বহুবিধ কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে চলেছি। গ্রাম উন্নয়নে আমাদের সরকারের গৃহীত উদ্যোগের ফলে গ্রামীণ এলাকার দারিদ্র্য শহরাঞ্চলের চেয়ে দ্রুততার সঙ্গে কমেছে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ‘খানার আয় ও ব্যয় জরিপ ২০২২’ অনুসারে ২০১৬ সালের তুলনায় শহরাঞ্চলে দারিদ্র্য কমেছে ৪ দশমিক ২ শতাংশ। অন্যদিকে একই সময়ে পল্লী অঞ্চলে দারিদ্র্য কমেছে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ।’

বিগত অর্থবছরগুলোতে পল্লী ও নগর অবকাঠামো নির্মাণ ও সম্প্রসারণ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত ১৪ বছরে পল্লী অঞ্চলে ৭৪ হাজার ৭০২ কিলোমিটার পাকা সড়ক, ৪ লাখ ৩০ হাজার ১৯৭ মিটার নতুন ব্রিজ, এক হাজার ৭৬৭টি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন, ৩৯৯টি উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ/সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এছাড়া, ২ হাজার ৮৪২টি গ্রোথ সেন্টার ও হাট-বাজার, এক হাজার ৪৬৫টি সাইক্লোন সেন্টার, নির্মাণ/পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া গ্রামাঞ্চলে সড়ক নেটওয়ার্ক কভারেজ বর্তমানে ৩৯ দশমিক ৪২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গ্রামের পাশাপাশি শহর অঞ্চলে ১১ হাজার ৭৮ কি. মি. সড়ক/ফুটপাত, ৪ হাজার ৫৭০ কি. মি. ড্রেন, ১৮ হাজার ৮৪৫ মিটার ব্রিজ/কালভার্ট, ৪৫টি বাস/ট্রাক টার্মিনাল ও ৫৩টি কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ করা হয়েছে। প্রয়োজনানুগ অবকাঠামো নির্মাণ/সম্প্রসারণ/সংস্কারের কাজ অব্যাহত থাকবে।’