আসন্ন ইউপি নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নে তৃণমূলের মতামত উপেক্ষা করে নৌকা প্রতীক বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থীরা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলেছেন। এতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং নির্বাচনে এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা মনে করছেন।
সরেজমিনে উপজেলার ব্রহ্মগাছা, চান্দাইকোনা, সোনাখাড়া ও ধানগড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে নেতাকর্মী ও মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বললে তারা এসব অভিযোগ করেন।
ব্রহ্মগাছা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন মাহমুদ নাজির জানান, ওয়ার্ডের ১৮টি ভোটের মধ্যে দু’জন অনুপস্থিত থাকায় ১৬ জনের মতামত ও ভোটগ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে আমি ৯টি ভোট পাই। অথচ একভোট প্রাপ্ত গোলাম সরোয়ার লিটনকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম আমার কাছে ২ লাখ টাকা দাবি করেন। সেই টাকা না দেওয়ায় ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে নৌকা প্রতীক বিক্রি করা হয়েছে।
একই ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মান্নান ও সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম মিঠু জানান, প্রার্থী যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হয়নি। সেখানে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোট না নিয়ে আমাদের মতামত নেওয়া হয়েছে। যেখানে আমরা নিজেরাই বুঝতে পারিনি আমরা কাকে সমর্থন দিয়েছি।
এদিকে গত শনিবার দুপুরে উপজেলার হাতেম-হাসিল মাদ্রাসা মাঠে এক সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিবাদ সমাবেশে নিজেকে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেন নাজির। ভাতহাড়িয়া হাসেম-হাসিল মাদ্রাসা মাঠে গাজী শামছুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত ওই প্রতিবাদ-সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বিএনপির বঞ্চিত প্রার্থী আনিছুর রহমান, গাজী আব্দুর রহিম, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল মান্নান, আলতাফ হোসেন মহুরী, গাজী আনিছুর রহমান প্রমুখ। এসময় বক্তারা বলেন, তৃণমূলের মতামতকে উপেক্ষা করে টাকার বিনিময়ে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগের ভরাডুবির আশঙ্কা রয়েছে। অবিলেম্ব ওই মনোনয়ন বাতিল করে তৃণমূলের ভোটে নির্বাচিত প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানান তারা।
একই অবস্থা চান্দাইকোনা, ধামাইনগর, সোনাখাড়া, ধানগড়া ও পাঙ্গাসী ইউনিয়নে। এসব ইউনিয়নেও অর্থের বিনিময়ে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন মনোনয়ন বঞ্চিতরা।
সোনাখাড়া ইউনিয়নের পর পর দুইবার নির্বাচিত বর্তমান চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন ছানা, চান্দাইকোনা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম ঝন্টু, পাঙ্গাসী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলমগীর কবির ও ধাগনড়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ফিরোজ উদ্দিন খান জানান, টাকার বিনিময়ে নৌকা প্রতীক বিক্রি করে এমন প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে যাতে নৌকার মর্যাদা রাখা কষ্টকর হবে। তারা বলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রায় দেড় কোটি টাকার মনোনয়ন বাণিজ্য করেছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শরিফ ঘুষ দাবি ও নৌকা প্রতীক বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নাসির উদ্দিন মাহমুদ নাজির মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ায় এখন সে প্রলাপ বকছে। বাকিদেরও অভিযোগ সত্য নয়। তৃণমূল নেতাদের মতামতকেই এখানে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক সাবেক মৎস্য ও প্রাণি সম্পদমন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস জানান, তৃণমূল নেতাদের মতামত গ্রহণের পর রায়গঞ্জের ৯টি ইউনিয়নের ৯ জনকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করে আমরা কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেই। সেখান থেকে সভানেত্রী চূড়ান্ত যাচাই- বাছাই করে কেন্দ্র থেকে ঘোষণা দিয়েছেন। এখন এসব অবান্তর অভিযোগ দিয়ে লাভ নেই।
প্রসঙ্গত, আগামী ২২ মার্চ ইউপি নির্বাচনের প্রথম দফায় সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের ৯টি ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চূড়ান্ত মনোনিত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন, ধামাইনগর ইউনিয়নের রাইসুল হাসান তালুকদার সুমন, চান্দাইকোনায় জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হান্নান খান, সোনাখাড়ায় আবু হেনা মোস্তফা কামাল রিপন, ঘুড়কা ইউপিতে সলঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আলহাজ জিল্লুর রহমান, ধানগড়ায় মীর ওবায়দুল ইসলাম মাসুম, ব্রহ্মগাছায় গোলাম সরওয়ার লিটন, নলকায় বর্তমান চেয়ারম্যান আবু বক্কার সিদ্দিক, পাঙ্গাসীতে বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম প্রামাণিক ও ধুবিলে আব্দুল করিম ভোলা।
/এআর/টিএন/