ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ এ আরাফাত, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিরো আলম, বাংলাদেশ কংগ্রেসের রেজাউল করিম স্বপন, জাতীয় পার্টি-জাপার দুই প্রার্থীসহ ১৫ জন। জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ এবং দলটির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে দুই জন মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিনে আগারগাঁওয়ে জেলা নির্বাচন অফিসে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আগ্রহীরা মনোনয়নপত্র জমা দেন।
এই আসনের জন্য মনোনয়নপত্র কিনেছিলেন মোট ২০ জন। জমা পড়া মনোনয়নপত্র বাছাই হবে আগামী রবিবার।
বৃহস্পতিবার দুপুরে অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের পাশাপাশি রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে সশরীরে ‘হার্ডকপি’ জমা দেন মোহাম্মদ এ আরাফাত। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, অল্প সময়ের জন্য হলেও উপনির্বাচনটা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন তিনি।
আরাফাত বলেন, নৌকা মার্কাকে হারাতে ‘একটি পক্ষ’ সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। তিনিও তাদের সেই চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিতে চান। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিপক্ষ যারা, তারা কিন্তু আসলে আছে। তারা হয়তো কৌশলগত কারণে নেই। কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় তারা ছিল ও আছে। তারা দৃশ্যত থাকুক বা পেছনে থাকুক, আমরা তাদের পরাজিত করবো, যেভাবে থাকুক।’
নৌকার প্রার্থী মোহাম্মদ এ আরাফাত বলেন, ‘আরও অনেকেই প্রার্থী আছে। তবে কার ঘাড়ে তারা চাপবে, এটা আমরা বলতে পারছি না। তারা সক্রিয়ভাবে আছে, তারা অদৃশ্যভাবে থাকবে, নৌকার বিপক্ষে তারা সব সময় সক্রিয়। আমাদের নৌকাকে আমরা হারতে দেবো না। আমাদের নেত্রীকে আমরা হারতে দেবো না।’
মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে হিরো আলম বলেন, ‘আমার সঙ্গে বিএনপি বা অন্য কোনও দল যুক্ত নেই। আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী।’ বগুড়ায় উপনির্বাচনে তাকে ‘নয়-ছয় করে’ হারানো হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘এ জন্যে এখানে দাঁড়িয়েছি প্রতিবাদ হিসেবে। এখানেও হারায় কিনা দেখছি, প্রতিবাদের মশাল হিসেবে।’ আসনটিতে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে বলেও আশা করছেন হিরো আলম।
লাঙ্গল কার জানা যাবে রবিবার
জাপার প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদপন্থি মামুনুর রশিদ মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বুধবার। পরের দিন পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরপন্থি সিকদার আনিছুর রহমানও মনোনয়নপত্র জমা দেন। পরে আনিছুর রহমান বলেন, ‘দলীয় প্রার্থীর বিষয়ে দলীয় কাগজপত্র জমা দিতে হয়। জাপা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। আরেকজন যথাযথ প্রক্রিয়ায় দলীয় মনোনয়ন পাননি। দলীয় প্রার্থী হতে হলে দলের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের সই করা দলীয় প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হয়।’ রিটার্নিং অফিসার মুনীর হোসাইন খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। রবিবার (১৮ জুন) আইন-বিধি পর্যালোচনা করে যাচাই-বাছাইয়ের দিন চূড়ান্ত প্রার্থীদের নাম জানানো যাবে।