আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবর নাগাদ বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের পুরো কাজ শেষ করে উদ্বোধনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার। শনিবার (১৭ জুন) দুপুরে গাজীপুরের টঙ্গীতে প্রকল্পটির সাড়ে চার কিলোমিটার নির্মাণ কাজ পরিদর্শনে গিয়ে এ কথা জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, গাজীপুরের যে রাস্তা তাতে ভোগান্তি বাড়বে, মানুষ দুর্ভোগে পড়বে-যেটা গোটা রাজধানীতে প্রভাব ফেলবে।
সেতুমন্ত্রী জানান, বিআরটি প্রকল্পের কাজ ৯১ ভাগ শেষ হয়েছে। আর হাউজ বিল্ডিং থেকে চেরাগআলী কলেজ গেট পর্যন্ত এলিভেটেড অংশের কাজ ৯৫ ভাগ শেষ। আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবর নাগাদ পুরো প্রকল্প কাজ শেষ হবে।
তিনি জানান, বিআরটি ছাড়াও আগামী নির্বাচনের আগে তেজগাঁও পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে করতে পারবো। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মধ্যে মেট্রোরেল মতিঝিল পর্যন্ত করতে পারবো। এর মধ্যে টানেল প্রস্তুত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সময় দিলে টানেল উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত।
ঈদুল আজহার আগেই সাড়ে চার কিলোমিটার এলিভেটেড অংশ খুলে দেওয়া হবে। এ সময় খুব শিগগিরই সারা দেশে আরও ১০০ সেতুর উদ্বোধন করা হবে বলেও জানান সেতুমন্ত্রী।
এবার ঈদযাত্রা আরও নির্বিঘ্ন করতে রাস্তায় কোনো পশুর হাট বসতে দেয়া হবে বলেও জানান ওবায়দুল কাদের। বলেন, নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট জায়গায় পশুর হাট বসবে। রাস্তায় যেন কোনও যানজট সৃষ্টি না হয় সে দিকে লক্ষ্য রাখা হবে।
এ সময় বিআরটি প্রকল্প নিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, সময়ের বিবেচনায় দীর্ঘসূত্রিকায় চলে গেছে এ প্রকল্পটি। হবে কি হবে না- এরকম একটা দ্বিধা-সংশয় কাজ করেছে।
তিনি বলেন, গাজীপুরে এই সড়কের মতো প্রকল্প চিন্তা করার আগে আরও গভীরভাবে ভেবেচিন্তে প্রকল্প নিলে ভালো হতো। এখানে সম্প্রসারণের প্রস্তাব দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। তবে এখানে আমাদের যে রাস্তা তাতে ভোগান্তি বাড়বে, দুর্ভোগে পড়বে-যেটা গোটা রাজধানীতে প্রভাব ফেলবে। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আমাদের নিরাপদ সড়কের জন্য প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প চলছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, সার্বিক বিবেচনায় সবচেয়ে বেশি দরকার শৃঙ্খলা, পরিবহনে শৃঙ্খলা। এটা একটা চ্যালেঞ্জ। এটা অতিক্রম করতে হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এবিএম আমিন উল্লাহ নুরী, সেতু বিভাগের সচিব মনজুর হোসেনসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।