নির্বাচন কমিশন কোনও গোয়েন্দা সংস্থার কথায় চলে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনা মো. আলমগীর। স্বাধীন প্রতিষ্ঠান কোনও গোয়েন্দা সংস্থার কথায় কাজ করে না বলেও জানান এই কমিশনার। নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধনবঞ্চিত ১০ দলের সংবাদ সম্মেলনের অভিযোগের জবাবে সোমবার (১৭ জুলাই) সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে মো. আলমগীর এ কথা বলেন।
এর আগে সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ইসির প্রাথমিক বাছায়ে টিকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে নিবন্ধন থেকে ছিটকে পড়া ১০টি দল যৌথভাবে সংবাদ সম্মেলন করে। ওই সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং সরকারের পরামর্শে দুটি ‘কিংস পার্টিকে’ নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশন সরকারের অঙ্গ সংগঠনে পরিণত হয়েছে।
জবাবে আলমগীর বলেন, ‘কেউ একজন অভিযোগ তো করতেই পারে। অভিযোগের তো ভিত্তি থাকতে হবে। নির্বাচন কমিশন কোনও গোয়েন্দা সংস্থার কথায় চলে না। গোয়েন্দা সংস্থার কথায় তারা কাজ করে না। নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। এখানে আইন আছে কানুন আছে… এই আইনকানুন যারা ফুলফিল করেছে.. যে দুটি রাজনৈতিক দল...।’
নিবন্ধনের শর্তের কথা উল্লেখ করে এই কমিশনার বলেন, ‘কেন্দ্রে (প্রধান কার্যালয়) একটি অফিস থাকতে হবে। ২২টি জেলায় তাদের অফিস থাকতে হবে। ১০০টি উপজেলায় অফিস থাকতে হবে। এটা প্রাথমিকভাবে একটা তদন্ত করা হয়েছে। সেই রিপোর্ট আবার কতটুকু সত্য সেটা দেখার জন্য আরও উচ্চ পর্যায়ের কমিটি করে তা তদন্ত করা হয়েছে। দুটো কমিটির তদন্ত রিপোর্ট যেখানে মিলে গেছে, সব ঠিক আছে, সেই হিসেবে মাত্র দুটি পার্টি সব শর্তগুলো পূরণ করেছে। বাকিগুলো করেনি। তার জন্য তাদের দেওয়া হয়নি। এর সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টের কোনও সম্পর্ক নেই। গোয়েন্দা সংস্থার কাছে আমরা রিপোর্ট চাইওনি। নেইওনি। গোয়েন্দা সংস্থার আমাদের কোনও রিপোর্ট দেওয়ার কথাও নয়।’
নির্বাচন কমিশন সরকারের অঙ্গ সংগঠনে পরিণত হয়েছে এমন অভিযোগের জবাবে আলমগীর বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। এটা গণতান্ত্রিক দেশ। গণতান্ত্রিক দেশে যেকোনও মানুষ যে কাউকে যে কোনও বিষয়ে মন্তব্য করতে পারেন। সেই অধিকার তাদের আছে। এই অধিকার তো তাদের আছে করতেই পারেন। তবে কতটা সত্য মিথ্যা তা বিচার করবেন দেশের জনগণ।’
সাংগঠনিক কার্যক্রম নেই এমন কাগুজে দলকে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে এই কমিশনার বলেন, ‘আইনে দলের কার্যক্রম (অ্যাক্টিভিটি) দেখার কোনও সুযোগ নেই। আপনার ধারণা অনুযায়ী কোনও নিবন্ধন দেওয়া হবে না। নিবন্ধন দেওয়া হবে আইনের ভিত্তিতে। আইনে যেটা কভার করে... একজন স্টুডেন্ট যদি বলেন তিন ঘণ্টা পরীক্ষা দিয়েছেন ৩৩ কেন পাননি, আরেকজন এক ঘণ্টা পরীক্ষা দিয়ে কেন ৫০ পেলেন... সেটা তো তিনি যা লিখেছেন তার ওপর নির্ভর করে। আপনারা যেটা বলছেন তা তো হবে না। উনারা কী শর্ত পূরণ করেছেন আইনের সেটা দেখতে হবে।’
আরও পড়ুন- দশ দলের সংবাদ সম্মেলনে গণঅধিকার পরিষদের দুপক্ষের হট্টগোল