বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। গত ৪ ফেব্রুয়ারি শিশুটির চিকিৎসায় আট সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছিল।
গত ১ ফেব্রুয়ারি বেইলী রোডের ২৬ নম্বর প্রোপার্টিজ ম্যানশনের ছয়তলার বেলকনি থেকে সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশু সন্তানকে ফেলে দেন মা বিউটি বেগম। শিশুটি তখন দ্বিতীয়তলার কার্নিশে পড়ে। বিউটি ওই বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতেন। ভগ্নিপতির ধর্ষণের ফল ছিল শিশুটি। আর তাই জন্মের পরপরই শিশুটিকে জানালা দিয়ে তিনি ফেলে দেন।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসাধীন নবজাতকের মা বিউটি গর্ভধারণ, সন্তান প্রসব, সন্তান ছুড়ে ফেলা এবং পরবর্তী বাস্তবতাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ট্রমায় ভুগছেন। তার শারীরিক সুস্থতার পর কাউন্সেলিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চিকিৎসকরা এবং বর্তমানে তিনি তেজগাঁও ভিকটিম সার্পোট সেন্টারে আছেন।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. খাজা আবদুল গফুর শিশুটির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
পয়লা ফেব্রুয়ারি শিশুটি উদ্ধারের পর প্রথমে মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে শিশুটির নাম দেয়া হয় ‘বেবি অব আদ-দ্বীন’। সেখানে চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, নবজাতকটি নড়াচড়া একটু কম করছে। অনেক ওপর থেকে পড়ায় তার মস্তিষ্কে হালকা আঘাত রয়েছে। তবে তা গুরুতর নয়। সে আশঙ্কামুক্ত রয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন তারা। তবে গত দুদিন আগে তার অবস্থা খারাপ হয়।
বিউটি বেগম ও শিশুটিকে গত ৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে শিশুটির নাম দেওয়া হয় ‘বেবি অব বিউটি’।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১০ মাস আগে কুমিল্লায় বড় বোন লিপি আক্তারের বাসায় বেড়াতে যান বিউটি। সেখানে তার বোনের স্বামী নীরব ঘুমের ওষুধ খাইয়ে তাকে ধর্ষণ করেন। পরে তিনি গর্ভবতী হয়ে পড়লে বিষয়টি গোপন রাখেন। গত ১ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বেইলী রোডের বাসায় তিনি প্রসব করেন। জন্মের পর জানাজানির ভয়ে তিনি নবজাতকটিকে ছয়তলার ওপর থেকে নিচে ফেলে দেন।
/এজে/