নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশের কয়েকজন রাজনীতিবিদ। মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) গণমাধ্যমে দলগুলোর পক্ষ হতে পাঠানো বিবৃতিতে একথা বলেন তারা।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে হওয়া সব মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘ড. মুহাম্মদ ইউনূস হলেন এই জাতির একজন সূর্য সন্তান। শত বছর পরও মানুষ তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। তারা লজ্জিত হবে এই ভেবে যে, এমন একজন বরেণ্য মানুষের সঙ্গে এই দেশের সরকার কী রকম নীচ আচরণ করেছিলো। ওনার বিরুদ্ধে সব মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।’
গণ অধিকার পরিষদের (একাংশ) আহবায়ক রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘ডক্টর মোহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরছেন। দেশের মুখ উজ্জ্বল করছেন। দেশের জন্য খ্যাতি-সম্মান বয়ে আনছেন। আর ওনাকে প্রতিনিয়ত অপমাণিত করছে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা। এভাবে চলতে পারে না। আমি ব্যক্তিগত ও দলীয়ভাবে তা মেনে নিতে পারি না। এটা মেনে নেয়া হবে না।’
এ সময় ড. ইউনূসের সম্মান রক্ষায় দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন রেজা কিবরিয়া।
রাজনৈতিক দল ছাড়াও অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি হওয়া ধারাবাহিক মামলায় উদ্বেগ জানিয়েছেন দেশের ৩৪ বিশিষ্টজন। গত রোববার (২৭ আগস্ট) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক সব পদক্ষেপ বন্ধে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
তবে ড. ইউনূসের পক্ষে বিশ্ব নেতাদের লেখা খোলা চিঠির সমালোচনা করেছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জাসদ। দলটির বিবৃতিতে বলা হয়, ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলার বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ করার আবদার করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিশ্ব নেতাদের লেখা খোলা চিঠি কোনও দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, আইনের শাসন, বিচার ব্যবস্থা ও আদালতের প্রতি অবমাননাকর।
এদিকে ড. ইউনূসের পক্ষে এত বিবৃতি না দিয়ে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার সত্যতা যাচাইয়ে বিদেশি বিশিষ্টজনদের দেশে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ পাঠানোর আহ্বান জানান আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘একজনের জন্য এত এত বিবৃতি না দিয়ে এক্সপার্ট পাঠাক। এত দরদ থাকলে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ পাঠাক। যার বিরুদ্ধে মামলা, তার সব দলিল-দস্তাবেজ তারা খতিয়ে দেখুক। সেখানে কোনও অন্যায় আছে কি, তারা নিজেরাই দেখুক। তাদের এসে দেখা দরকার, কী কী অসামঞ্জস্য আছে।’
দেশের আইন ব্যবস্থা স্বাধীন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভদ্রলোকের (ড. ইউনূস) যদি এতই আত্মবিশ্বাস থাকতো যে তিনি অপরাধ করেননি, তাহলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিবৃতি ভিক্ষা করে বেড়াতেন না। আমাদের দেশের বিচারব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বাধীন। সবকিছু আইনমতো চলে। কেউ যদি ট্যাক্স না দেয় আর শ্রমিকের অর্থ আত্মসাৎ করে, শ্রমিকের পক্ষ থেকে লেবার আদালতে মামলা হয়। আমাদের কী এমন হাত আছে যে একটা মামলা বন্ধ করে দেব? একটা চলমান মামলা প্রত্যাহার করার আমি কে? আমার তো অধিকার নেই। আমি তো হস্তক্ষেপ করতে পারি না। আমাদের সাফ কথা, দেশের আইন-আদালত, লেবার আদালত আছে। ল উইল টেক ইটস ওন কোর্স।’
প্রসঙ্গত, সোমবার (২৮ আগস্ট) দেশের বেশ কয়েকটি শ্রম আদালতে শ্রমিকদের পাওনা টাকা পরিশোধ না করায় ড. ইউনূসের নামে মামলা হয়। এ ছাড়া অর্থ পাচারসহ ট্যাক্স ফাঁকি দেয়ারও অভিযোগ আনা হয়েছে গ্রামীণ ব্যাংকের এই প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে।