শুক্রবার মুনা তাসনিম ফোনে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সুভাট চিরাপান্ট-এর সঙ্গে দেখা করে বাংলাদেশ সরকারের উদ্বেগের কথা আমি জানিয়েছি। তাকে ঢাকার অবস্থা ব্যাখ্যাও করেছি। কারণ, এখানে ভিসা দেওয়ার জন্য নেওয়া সময়সীমা হঠাৎ অনেক বেড়ে গেছে।’ এ সময় রাষ্ট্রদূত থাই কর্তৃপক্ষকে বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী এবং পর্যটকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণেরও অনুরোধ করেছেন বলেও জানান।
বাংলাদেশ বিষয়ে থাই ভিসা নীতি পরিবর্তন হয়েছে কি না—জানতে চাইলে মুসা তাসনিম জানান, এই নীতিতে কোনও ধরনের পরিবর্তন হয়নি। বাংলাদেশে কেন ভিসা দিতে সময় বেশি লাগছে, বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন।
এদিকে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা কয়েকটি উদাহরণ থাই কর্তৃপক্ষকে দিয়েছি। যা থেকে থাইল্যান্ড বুঝতে পারে, তারা তাদের দেশের ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশি সময় নিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘একটি ঘটনায় ভিসা আবেদন জমা দেওয়ার ৫০ দিন পরে সেটি বাতিল করা হয়। শুধু তাই নয়, এই পুরো সময় আবেদনকারীর পাসপোর্ট দূতাবাসের কাছেই ছিল।’
আরেকটি ঘটনায় বলা হয়েছে, সম্প্রতি এক ব্যক্তি চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড যেতে চেয়েছিলেন। তাকে ভিসা দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে তার স্ত্রীকে ভিসা দেওয়া হয়নি। এছাড়া, যেসব ব্যবসায়ী অনেকবার থাইল্যান্ড ভ্রমণ করেছেন, তাদের ভিসা দিতেও এখন ৩০ থেকে ৪০ দিন লাগছে। এই পুরো সময় তাদের পাসপোর্ট থাই দূতাবাসে রেখে দেওয়া হচ্ছে।
আগে তিন থেকে চার দিনের মধ্যে থাইল্যান্ডের ভিসা পাওয়া যেত। কিন্তু গত নভেম্বর থেকে হঠাৎ করেই এই সময় বেড়ে ৩০ থেকে ৫০ দিনে এসে দাঁড়ায়।
প্রসঙ্গত, ঢাকায় থাইল্যান্ড দূতাবাসে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ ভিসা আবেদন জমা পড়ে। দূতাবাস থেকে পাওয়া এক হিসেবে দেখা গেছে, গত বছর প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার বাংলাদেশি থাইল্যান্ড ভ্রমণ করেছেন। যাদের বেশিরভাগই চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন সেখানে।
//এসএম/এমএনএইচ/