নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ করে সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত বলেছেন, জামালপুরের ডিসির মতো ডিসিদের বিরুদ্ধে আপনাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এদের দিয়ে ক্রেডিবল নির্বাচন হবে না।
‘দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: প্রত্যাশা ও বাস্তবতা’ প্রতিপাদ্যে আলোচনা ও পর্যালোচনামূলক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) নাগরিক সমাজ, সাংবাদিক, অধ্যাপক, নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বসে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়ালের সভাপতিত্ব করেন।
নির্বাচন কমিশনারদের উদ্দেশে সাবেক কমিশনার বলেন, জামালপুরের ডিসি বলেছেন আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতায় আনতে হবে। এই খবর সব পেপারে দেখলাম। এসব ডিসিদের বিরুদ্ধে আপনাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে কী করবেন, কীভাবে কাজ করবেন। একজেলায় চার জন রিটার্নিং কর্মকর্তা দিয়ে নির্বাচন করাতে পারবেন। একই ডিসিদের রিটার্নিং করাতে হবে বিষয়টি এমন নয়।
তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে মালদ্বীপে ভোট হয়েছে বড় বড় অবজারভার সেখানে ছিল। ভোটে কখনও অভিযোগ হয়নি। আপনাদের অবস্থা কঠিন, আপনাদের হাত পা বেঁধে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়েছে। আপনারা একা সিদ্ধান্ত নেবেন কোন পলিটিকাল পার্টির কথা শুনবেন না। অতীত ভুলগুলো শোধরাবেন।
তিনি আরও বলেন, আমি বার বার বলছি ভোটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়োগ নিয়ে। ঢাকায় দেখলাম একটা প্রার্থীকে মারা হলো, এটা কীভাবে হলো। পলিটিক্যাল পার্টি সেন্টার পাহারা দেয়। কার ভোটার কে দেয় এরা জানে? প্রত্যেক সেন্টারে পাহারা দেয়, এদের শনাক্ত করে পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ এদের কারণে মানুষ ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে না।
বৈঠকে অংশ নেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ, সাবেক সচিব আবু আলম মো. শহীদ খান, সাবেক রাষ্ট্রদূত মো. হুমায়ূন কবীর, প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান, ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত ও জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ।
আরও উপস্থিত ছিলেন ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক আশিষ সৈকত, আরটিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশিক রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক আল মাসুদ হাসানুজ্জামান, খবর সংযোগ সম্পাদক শেখ নজরুল ইসলাম, নাগরিক টিভির হেড অব নিউজ দীপ আজাদ, সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ কামাল, সিনিয়র সাংবাদিক অজয় দাস গুপ্ত, সময় টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ জুবায়ের, মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের হেড অব নিউজ রেজোয়ানুল হক রাজা, গাজী টিভির হেড অব নিউজ ইকবাল করিম নিশান, আজকের পত্রিকার জ্যেষ্ঠ সহকারী সম্পাদক বিভুরঞ্জন সরকার প্রমুখ।
এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিব, অতিরিক্ত সচিব, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক, আইডিয়া দ্বিতীয় পর্যায় প্রকল্পের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ সায়েম, ইসির সিস্টেম ম্যানেজার ও যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।