নাগরিকদের স্বাধীনতা যেমন- গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতাসহ অন্যান্য অধিকার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের মতদ্বৈধতা আছে। সরকারের পক্ষ থেকে অস্বস্তিকর উপাদান নিয়ে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা সবসময় ছিল এবং আছে। নাগরিক স্বাধীনতা নিয়ে সরকারের বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিরা হোয়াইট হাউজ, স্টেট ডিপার্টমেন্ট, কংগ্রেসম্যানসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে হোয়াইট হাউজের দুই শীর্ষ ব্যক্তির সঙ্গেও বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেপ্টেম্বরে ভারতের জি-২০ সম্মেলনের সাইডলাইনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যেও আলোচনা হয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে হোয়াইট হাউজের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জন কারবি প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে জানান, মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন সুলিভানের সঙ্গে গত মাসে (সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারের এই উদ্যোগ ঠিক পথে এগোচ্ছে এবং সামনের দিনগুলোতে এ ধরনের সংলাপ অব্যাহত রাখতে হবে বলে মনে করেন সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও ভারতের জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং প্রফেসর মো. শহীদুল হক।
তিনি বলেন, ‘কূটনীতিতে চূড়ান্ত বলে কিছু নেই। তবে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগগুলো নেওয়ার ফলাফল নির্ভর করবে—এর সঙ্গে জড়িত সব খেলোয়াড়ের দক্ষতা, নির্ভরযোগ্যতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের ওপর। তবে এ ধরনের গঠনমূলক ও হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক থাকার ঐতিহাসিক পরম্পরা থাকতে হবে।’
বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক ও ভূ-অর্থনৈতিক পরিস্থিতির আলোকে এ ধরনের আলোচনা সামগ্রিক দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি আনতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলেও জানান তিনি।
শহীদুল হক বলেন, ‘আমি মনে করি এখনও সময় আছে, গঠনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সংলাপের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে নতুন অধ্যায় তৈরি করে এগিয়ে যাওয়া।’
এ ক্ষেত্রে দুই দেশের জনগণের পারসেপশন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং এটি গড়ে তুলতে যথাযথ ন্যারেটিভ বিশেষ ভূমিকা রেখে থাকে বলে তিনি জানান।
সংলাপ ও শালীনতা
কূটনীতিতে সংলাপ ও শালীনতার গুরুত্ব অনেক বেশি। সব পক্ষকে শালীনতা বজায় রেখে সংলাপ করার মাধ্যমে ভালো ফলাফল অর্জন করতে হবে।
এ বিষয়ে শহীদুল হক বলেন, ‘কূটনীতিতে যথাযথ ও ধারাবাহিক ন্যারেটিভ থাকাটা অত্যন্ত জরুরি। এটি করা হলে সম্পর্কে স্ট্রেস অ্যান্ড স্ট্রেইন অপসারণ করা অনেক বেশি সহজ হয়। একইসঙ্গে শালীনতা ছাড়া কূটনীতি করা সম্ভব নয়।’
অস্বস্তিকর পরিবেশ দূর করার জন্য উভয় পক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে এবং একে অপরের সঙ্গে কথা বলতে হবে। তবে, একইসঙ্গে মনে রাখতে হবে, অন্য পক্ষ পছন্দ করছে না, এমন কথা যতদূর সম্ভব পরিহার করা বাঞ্ছনীয়, বলে মনে করেন সাবেক এই পররাষ্ট্র সচিব।
জনগণের উপলব্ধি
দুই দেশের সম্পর্কে মতানৈক্য ও মতদ্বৈধতা থাকাটাই স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু মতদ্বৈধতার বিষয়টি সব পক্ষকে জনগণের কাছে এমনভাবে উপস্থাপন করা উচিত নয়, যাতে কোনও ভুল বার্তা যায়।
শহীদুল হক বলেন, ‘এটি কোনও গোপন বিষয় নয় যে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের বিষয়ে বাংলাদেশের জনগণের বাড়তি কৌতূহল রয়েছে। সেজন্য ওই দেশ দুটি নিয়ে যেসব বক্তব্য প্রকাশ্যে বলা হয়, সেটির বিষয়ে জনগণ তাদের নিজের মতো করে ব্যাখ্যা করে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করার আগে অত্যন্ত চিন্তাভাবনা করা দরকার। কারণ, কোনও মন্তব্যের কী ব্যাখ্যা করবে জনগণ, সেটির ওপরেও হয়তো কূটনীতিতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়তে পারে। এ জন্য সব পক্ষকে প্রকাশ্যে অত্যন্ত সাবধানে মন্তব্য করা দরকার।’