পর্যবেক্ষক হিসেবে নিবন্ধনের জন্য প্রথম দফার প্রাথমিক বাছাইয়ে টিকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যোগ্য বলে বিবেচিত হয়নি আলোচিত-সমালোচিত বেসরকারি সংস্থা ইলেকশন মনিটরিং ফোরাম ও সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন। এ দুটি সংস্থাই দ্বিতীয় ধাপে ফের আবেদন করে প্রাথমিক বাছাইয়ে যোগ্য বিবেচিত হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপের প্রাথমিক বাছাইয়ে যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে ২৯টি বেসরকারি সংগঠন।
নির্বাচন কমিশন সোমবার (১৩ নভেম্বর) দ্বিতীয় ধাপে প্রাথমিক বাছাইয়ে যোগ্য বিবেচিত ২৯টি পর্যবেক্ষক সংস্থার তালিকা প্রকাশ করেছে। এসব সংস্থার বিরুদ্ধে কোনও দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তি শেষে যোগ্য সংস্থাগুলোকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য চূড়ান্তভাবে নিবন্ধন দেবে কমিশন। এর আগে প্রথম ধাপে ৬৭টি প্রতিষ্ঠানকে ৫ বছরের জন্য নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে।
এসব সংস্থার বিরুদ্ধে কোনও দাবিবা আপত্তি থাকলে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে ইসির সচিবের কাছে আবেদন করতে হবে। সোমবার এ বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে ইসি।
এ বিষয়ে ইসির সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মো. আশাদুল হক জানান, দ্বিতীয়বার ১৪ সেপ্টেম্বর গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১৪৯টি আবেদন জমা পড়েছিল। ইসির যুগ্ম-সচিবের (আইন) নেতৃত্বে সাত সদস্যের যাচাই-বাছাই কমিটি প্রাথমিক বাছাই করে। সেখানে ৩৭টি সংস্থার আবেদন সঠিক পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে অধিকতর বাছাইয়ে দেখা যায়, আটটি সংস্থা নিবন্ধনের শর্ত পূরণ করতে পারেনি। তাই সবকিছু ঠিক থাকায় বাকি ২৯টি সংস্থাকে নিবন্ধন দিতে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশীয় পর্যবেক্ষক সংস্থার কাছে আবেদন আহ্বান করে ইসি। ইসির আহ্বানে সাড়া দিয়ে ২১১টি দেশীয় সংস্থা পর্যবেক্ষক সংস্থা হিসেবে নিবন্ধন পেতে আবেদন করে। পরে কয়েক দফায় যাচাই-বাছাই করে ৬৭টি সংস্থাকে নিবন্ধন দেয় এই সাংবাধানিক সংস্থাটি।
জানা গেছে, অতীতের তুলনায় পর্যবেক্ষক সংস্থার সংখ্যা কম হওয়ায় নির্বাচন কমিশন আবারও আগ্রহী বেসরকারি সংস্থার জন্য আবেদন চেয়ে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তিতে প্রথম দফায় বাদ পড়া এনজিও’রা আবেদন করতে পারবে বলেও উল্লেখ করা হয়। এ দফায় ১৪৯টি সংস্থা আবেদন করেছিল। সেখান থেকে বাছাই করে ২৯টি সংস্থাকে প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করেছে ইসি।
এই ২৯টি সংস্থার মধ্যে আলোচিত ইলেকশন মনিটরিং ফোরাম ও সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনও রয়েছে। দুটি সংস্থার সঙ্গেই জড়িত আছেন মোহাম্মদ আবেদ আলী। তিনি যথাক্রমে একটির মহাসচিব এবং অপরটির চেয়ারম্যান। গত জাতীয় নির্বাচনে অনভিজ্ঞ কয়েকজন বিদেশি নাগরিককে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়ে এসে সমালোচিত হয়েছিল সার্ক মানবাধিকার ফোরাম। আর এবার নির্বাচনের আগে কয়েকজন বিদেশি নাগরিককে দেশে এনে ‘বিদেশি পর্যবেক্ষক’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয় ইলেকশন মনিটরিং ফোরাম। ওইসব পর্যবেক্ষকদের নিয়ে তিনি ইসির সঙ্গে একাধিকবার সাক্ষাৎও করেছেন।
দ্বিতীয় ধাপে প্রাথমিক বাছাইয়ে টিকে যাওয়া ২৯টি বেসরকারি সংস্থা হলো— ডেভেলপমেন্ট অরগানাইজেশন অব দ্য রুর্যাল পুওর-ডরপ, প্রত্যাশা সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা, সোসাইটি ফর রুর্যাল বেসিক নীড-স্রাবন, সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, ইলেকশন মনিটরিং ফোরাম, রুরাল ভিশন (আরভি), তরফরসতাজ শান্তি সংঘ (টিএসএস), পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট (পাশা), পাথওয়ে, এমপাওয়ারমেন্ট থ্রু ল অব দ্য কমন পিপল (এলকপ), জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট, নাইস ফাউন্ডেশন, নারী উন্নয়ন সংস্থা, সুফিয়া হানিফ ফাউন্ডেশন, সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট কমিউনিটি অর্গানাইশেন (সাকো), সবার তরে আমরা ফাউন্ডেশন (এসটিএএফ), রিয়ান মনি সোসাইটি, অগ্রগতি সেবা সংস্থা (অসেস), আল-কুরআন প্রচার সংস্থা (আকপস)- বাংলাদেশ, ইন্টারন্যাশনাল অব লিগ্যাল এইড ফাউন্ডেশন, এআরডি (অ্যাসোসিয়েশন ফর রুর্যাল ডেভেলমেন্ট), বাংলাদেশ মানবাধিকার সমন্বয় পরিষদ (বামাসপ), রাজারহাট স্বাবলম্বী সংস্থা, সংগতি সমাজকল্যাণ সংস্থা, উদ্ভাবনী মহিলা সংস্থা, ভলান্টারি অর্গানাইজেশন ফর দ্য নীডি (ভন), দিনাজপুর পল্লী উন্নয়ন প্রচেষ্টা (ডিপিইউপি), সেলফ ডেভেলমেন্ট ইনিসিয়েটিভ (এসডিআই) ও বেডো আর্থ সামাজিক কেন্দ্র।