বিদ্রোহে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে সংসদে কোস্টগার্ড বিল পাস

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডবাংলাদেশ কোস্টগার্ডের কোনও সদস্য বাহিনীর অভ্যন্তরে বিদ্রোহের সূচনা, বিদ্রোহে প্ররোচণা ও অংশ এবং বিদ্রোহে অবস্থান করে তা দমনের ব্যবস্থা না নিলে কোস্টগার্ড আদালত কর্তৃক মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত বা অন্য কোনও আইনের অধীনে লঘুদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এ বিধান রেখে ‘বাংলাদেশ কোস্টগার্ড বিল-২০১৬’সোমবার জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে পরে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি বিলটি সংসদে তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পরে সেটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়।
বিলে বলা হয়েছে, কোস্টগার্ড বাহিনীতে একজন মহাপরিচালকসহ মোট ২১টি পদ থাকবে। বাহিনীর কাজ হবে বাংলাদেশের জলসীমায় অবৈধ অনুপ্রবেশ, মানবপাচার, মাদকদ্রব্য, চোরাচালান, অবৈধ মৎস্য আহরণ ইত্যাদি রোধ করা।
এতে বলা হয়েছে,যুদ্ধাবস্থা বা অন্য কোনও বিশেষ প্রয়োজনে কোস্টগার্ডকে সহায়তা করার জন্য সরকার কাউকে তলব করে নিয়োজিত করলে নিয়োজিত অবস্থায় ওই ব্যক্তি কোস্টগার্ডের কর্মকর্তা বা সদস্য হিসেবে গণ্য হবেন। নিয়োজিত অবস্থায় কোনও ব্যক্তি চাকরির শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
নতুন আইনে কোনও ব্যক্তি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দাপ্তরিক কাজে বাধা দিলে, কর্মকর্তাকে হুমকি দিলে বা তার সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করলে ১৪ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
বিলে আরও বলা হয়েছে,বাহিনীর কোনও সদস্য জুয়া খেললে বা মাতলামি করলে তিনি সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। কোনও ব্যক্তি মিথ্যা জেনেও অন্য কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের কাছে মিথ্যা অভিযোগ আনলে সেই ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
বিলে বলা হয়েছে,আইনের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য স্পেশাল কোস্টগার্ড আদালত, স্পেশাল সামারি কোস্টগার্ড আদালত ও সামারি কোস্টগার্ড আদালত নামের তিনটি আদালত থাকবে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,বিদ্যমান আইনটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। যে কারণে কোস্টগার্ড বাহিনীকে বিভিন্ন জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। তাই আইনটি নতুন করে প্রণয়ন করা দরকার। 

ইএইচএস/এমএসএম