মঙ্গলবার সাক্ষ্যগ্রহণের নির্ধারিত দিন ধার্য থাকলেও খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া সাক্ষ্যগ্রহণ পেছানোর জন্য সময়ের আবেদনে জানান,ইস্যু গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে।আদালত তা মঞ্জুর করে নতুন এ দিন ধার্য করেন।এ সময় মামলার বাদীও আদালতে উপস্থিত ছিলেন ।
২০১৫ সালের ১৪ জুলাই খালেদা জিয়ার পক্ষে সমনের জবাব দাখিল করেন আইনজীবী মাসুদ আহম্মদ তালুকদার ও জয়নাল আবেদীন মেজবাহ।
জবাবে বলা হয়,সোনালী ব্যাংক থেকে কোম্পানি ১৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ঋণ নেয়।পরে ১৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা পরিশোধ করে। অথচ সোনালী ব্যাংক নিয়মবহির্ভূত ও বেআইনিভাবে ৪৫ কোটি টাকা ঋণখেলাপির মামলাটি করেছে, যা অর্থঋণ আইনে বৈধ নয়। এদিকে, আরাফাত রহমান কোকো কোম্পানির নামমাত্র পরিচালক ছিলেন। তিনি লেনদেনের সঙ্গে কোনওভাবেই জড়িত ছিলেন না। তাই মামলাটি খারিজের আবেদন করেন খালেদা জিয়া। খালেদার পক্ষে হলফনামা দেন মাহবুব আল আমিন।
২০১৫ সালের ১৬ মার্চ খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন আদালত। সমন জারির পর জবাব দিতে বলা হয় তাকে। আরাফাত রহমান কোকো মারা যাওয়ায় ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক অংশীদারিত্ব মামলায় তার মা খালেদা জিয়া, স্ত্রী শার্মিলা রহমান এবং দুই মেয়ে জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমানকে বিবাদী করার জন্য ২০১৫ সালের ৮ মার্চ আদালতে আবেদন করেন।
সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ১৬ মার্চ
ঢাকার অর্থঋণ আদালত-১ এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক রোকসান আরা হ্যাপী এ মামলায় তাদের বিবাদী করেন।মামলায় অন্য বিবাদীরা হলেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার মামা প্রয়াত সাঈদ ইস্কান্দারের ছেলে শামস ইস্কান্দার ও সাফিন ইস্কান্দার,মেয়ে সুমাইয়া ইস্কান্দার ও স্ত্রী বেগম নাসরিন আহমেদ, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন (অন্য মামলায় বর্তমানে কারাগারে),মামুনের স্ত্রী শাহীনা ইয়াসমিন, কাজী গালিব আহমেদ, মিসেস শামসুন নাহার ও মাসুদ হাসান।
মামলার এজাহারে জানা যায়, ১৯৯৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি বিবাদীরা
ড্যান্ডি ডায়িংয়ের অনুকূলে সোনালী ব্যাংকে ঋণের জন্য আবেদন করেন।
একই বছরের ৯ মে সোনালী ব্যাংক ঋণ মঞ্জুর করে। ২০০১ সালের ১৬ অক্টোবর বিবাদীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ তাদের সুদ মওকুফ করে।
পরবর্তীতে বিবাদীদের পুনরায় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংক আবারও ঋণ
পুনঃতফসিলীকরণ করে। কিন্তু বিবাদীরা ঋণ পরিশোধ না করায় ২০১০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকের পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধের জন্য চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হলেও তারা কোনো ঋণ পরিশোধ করেননি। এর ফলে তাদের বিরুদ্ধে ৪৫ কোটি ৫৯ লাখ ৩৭ হাজার ২৯৫ টাকা ঋণখেলাপির অভিযোগ আনা হয়। ২০১৩ সালের ২ অক্টোবর ঢাকার ১ম অর্থঋণ আদালতে সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় শাখার কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
২০১৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ারসহ ১৪ বিবাদীর বিরুদ্ধে ইস্যু গঠন করেন আদালত।
টিএইচ/এপিএইচ/