পুলিশ সদর দফতরের অ্যাডিশনাল ডিআইজি মো. নজরুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশ পুলিশের প্রশংসা করতে গিয়ে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল পিটার বলেছেন, বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আইভরিকোস্ট মিশনে কর্মরত ফরমড পুলিশ ইউনিট-এর সংখ্যা ৭টি থেকে কমিয়ে ৩টি করা হচ্ছে। ৩টি এফপিইউ-এর মধ্যে বাংলাদেশ পুলিশ অন্যতম। উন্নত নৈতিকতা, কঠোর শৃঙ্খলাবোধ এবং পেশাদারিত্বের কারণে আইভরিকোস্ট মিশনে বাংলাদেশ পুলিশ সদস্যদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হচ্ছে। বাংলাদেশ পুলিশ সদস্যদের কঠোর পরিশ্রম ও দক্ষতার কারণে এ অনন্য অর্জন সম্ভব হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক জাতিসংঘ কর্মকর্তাকে বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে পুলিশে সর্বোচ্চ একক অবদানকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ অবদান রেখে চলেছে। বাংলাদেশ পুলিশ বিশ্বশান্তি রক্ষায় তাদের যোগ্যতা ও দক্ষতা প্রমাণে সমর্থ হয়েছে। তিনি জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতনপদে বাংলাদেশ থেকে পুলিশ কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেলকে অনুরোধ জানান।
আইভরিকোস্ট মিশন সফরকালে বাংলাদেশের পুলিশ প্রধানকে অভূতপূর্ব সম্মান প্রদর্শন করেছে জাতিসংঘ কর্তৃপক্ষ। জাতিসংঘ আইজিপিকে বিশেষ বিমানে করে রাজধানী আবিদজান থেকে মিশন এলাকা কারগোতে নেওয়া হয়েছে। তিনি মিশন এলাকায় পৌঁছলে স্থানীয় পুলিশ কমিশনার, জাতিসংঘের কর্মকর্তাগণ, বিভিন্ন মিশনের পুলিশ কর্মকর্তাগণ এবং গণ্যমান্য বক্তিবর্গ তাকে স্বাগত জানান। স্থানীয় পুলিশ কমিশনার আইজিপিকে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।
বাংলাদেশ পুলিশের ইনসপেক্টর জেনারেল আইভরিকোস্ট থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন মালি পরিদর্শনে যান। তিনি মালিতে জাতিসংঘের ডেপুটি আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল এবং পুলিশ কমিশনারের সাথে সাক্ষাৎ করেন।
মালির পুলিশ কমিশনার জাতিসংঘের ম্যান্ডেন্ট বাস্তবায়নের সঙ্গে সঙ্গে মালিতে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং তাদের জনগণকে সহায়তা প্রদানের জন্য বাংলাদেশের পুলিশ প্রধানের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান। তিনি মালির পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ সহায়তা প্রদানের জন্য আইজিপির প্রতি অনুরোধ জানান।
বাংলাদেশ পুলিশের ইনসপেক্টর জেনারেল মালির শান্তিরক্ষায় সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত রাখা হবে বলেও তাদের আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি মালির পুলিশের প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে সহযোগিতারও আশ্বাস দেন।
আইজিপি মালি মিশনে পুলিশের সংখ্যা বৃদ্ধি, একটি পূর্ণাঙ্গ মহিলা কন্টিনজেন্ট স্থাপন এবং জাতিসংঘ পুলিশ সদস্য নিয়োগ করার জন্য ডেপুটি আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেলের প্রতি অনুরোধ জানান। ডেপুটি এসআরএসজি মালিতে বাংলাদেশ থেকে আরও অধিক সংখ্যক শান্তিরক্ষী মোতায়নের বিষয়টি গুরুত্বেও সঙ্গে পর্যালোচনা করা হবে বলে বাংলাদেশের পুলিশ প্রধানকে আশ্বাস দেন।
আইজিপি মালিতে বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর ক্যাম্পও পরিদর্শন করেন। সেখানে কর্মরত সেনা সদস্যরা আইজিপির সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করেন। নৈশভোজে জাতিসংঘের কর্মকর্তারা, সেদেশের পুলিশ কর্মকর্তারা এবং বিশিষ্ট বক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, আইজিপি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন আইভরিকোস্ট ও মালি পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে গত শুক্রবার আইভরিকোস্টের রাজধানী আবিদজানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন।
/জেইউ/এমএনএইচ/