৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা তীক্ষ্ণ চোখে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছে। ইতিমধ্যে শতাধিক নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও বিদেশি গণমাধ্যমকর্মী বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছেন। সাবেক কূটনীতিকরা বলছেন, এবারের নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতির ওপরে অনেকাংশে নির্ভর করছে বিদেশিদের কাছে এর গ্রহণযোগ্যতা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে একজন সাবেক কূটনীতিক বলেন, ‘এবারের নির্বাচনের প্রতি বিদেশিদের যে পরিমাণ আগ্রহ, সেটি এর আগে পরিলক্ষিত হয়নি। ২০০৮, ২০১৪ বা ২০১৮ এর নির্বাচনের আগে ও পরে বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করেছে। কিন্তু এবারে এর গুরুত্ব ও মাত্রা অনেক বেশি।’
তিনি বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ভোটারদের কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া। সেটি যদি সম্ভব হয়, তবে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়েছে বলে প্রতীয়মান হবে।’
অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন
গত প্রায় এক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের প্রায় সবাই ’অবাধ, সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ’ নির্বাচনের ওপর জোর দিচ্ছে। যুক্তরাজ্য এর সঙ্গে ‘অংশগ্রহণমূলক’ শব্দটিও ব্যবহার করছে।
দেশের সাবেক আরেক কূটনীতিক বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে একাধিকবার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। সরকারের কাছে জনগণের অংশগ্রহণটি বড়। এখানে কোনও রাজনৈতিক দল ইচ্ছাকৃতভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে, সেটির দায়িত্ব সরকার নেবে না।’
দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপিসহ বেশ কিছু নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে না এবং এর দায়িত্ব সেইসব দলগুলোর বলে বিদেশিদের কাছে জানানো হয়েছে। একাধিক মন্ত্রী ইতিমধ্যে বক্তব্য ও বিবৃতি দিয়েছেন বলেও জানান এই কূটনীতিক।
তিনি বলেন, ‘এ কারণে নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করার জন্য জনগণকে ভোট কেন্দ্রে নেওয়াটা সরকারের জন্য অত্যন্ত জরুরি।’
সহিংসতা
সব দেশই সহিংসতামুক্ত নির্বাচনের ওপর জোর দিয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে সরকার নিশ্চয়তা দিতে পারবে না বলে ইতিমধ্যে বিদেশিদের জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের নির্বাচন লক্ষ্য করলে দেখা যাবে কিছু সহিংসতার ঘটনা সবসময় হয়ে থাকে।’
বাংলাদেশে এর আগের ১১টি নির্বাচনও সহিংসতামুক্ত ছিল না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি থাকলেও এটি রোধ করা সম্ভব হবে না।’
প্রসঙ্গত, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রবিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীন ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নওগাঁ-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিনুল ইসলাম মারা যাওয়ায় ওই আসনের নির্বাচন স্থগিত করেছে ইসি। ফলে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯ আসনে ভোট গ্রহণ করা হবে।
ইসি’র তথ্য অনুযায়ী, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ১ হাজার ৯৭০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ইসিতে নিবন্ধিত ৪৪টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে এই নির্বাচনে ২৮টি রাজনৈতিক দলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১ হাজার ৫৩৪ জন প্রার্থী। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে আছেন ৪৩৬ জন।