আবারও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে পারেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফেডারেশনপাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ‘ন্যায্য’ দাবিগুলো পূরণে আবারও লাগাতার কর্মসূচিতে যাওয়ার চিন্তা করছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এবার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের চেয়েও কঠিন কর্মসূচিতে আসতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তারা। আগামীকাল রবিবার বেতন-বৈষম্য নিরসন সংক্রান্ত পুনর্গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর বসার কথা থাকলেও হঠাৎ গত শুক্রবার রাতে শিক্ষক প্রতিনিধিদেরকে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। এতে দাবি পূরণে অনেকটা অনিশ্চিতের মধ্যে পড়ে গেয়েছেন বলে জানান শিক্ষক নেতারা।
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি ফরিদ উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে শনিবার সকালে জানিয়েছেন, বৈষম্য দূরীকরণে কেবিনেট সাব-কমিটির মিটিংয়ে সচিব, শিক্ষক নেতারা এবং মন্ত্রীদের বসার কথা থাকলেও মন্ত্রিপরিষদ থেকে শিক্ষকদেরকে মিটিংয়ে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী এই নেতাদের সঙ্গে মিটিংয়ে বসতে চাচ্ছেন না বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, আমাদের যেহেতু মিটিংয়ে রাখা হচ্ছে না, সে কারণে কিছুটা দ্বিধা-দ্বন্দ্বের মধ্যে পড়ে গেছি। কারণ আমাদের অনুপস্থিতিতে কী ধরনের সিদ্ধান্ত তারা নেবেন তা বোঝা যাচ্ছে না।
তবে দাবি আদায় না হলে কঠোর আন্দোলনের দিকে যাওয়া ছাড়া কোনও উপায় তো দেখি না বলে জানান ফেডারেশনের সভাপতি ফরিদ উদ্দিন। প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের পরও যদি কোনও হেরফের হয় তাহলে তো বিষয়টি দুঃখজনক হবে। ইতিবাচক অথবা নেতিবাচক কোনও সাড়া পাবার পর আগামী ৮ মার্চ আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে নির্ধারিত সভা থেকেই জানানো হবে।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির নেতা এবং শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।

দাবি আদায়ে অনড় কয়েকজন শিক্ষক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের একমাস অতিবাহিত হলেও তাদের দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনও অগ্রগতি আসেনি। তাই বেতন-বৈষম্য নিরসন সংক্রান্ত পুনর্গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির সভার পরেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবেন বলে জানিয়েছেন। যদি তাদের দাবি মেনে না নেওয়া হয় অথবা খণ্ড খণ্ডভাবে দাবি মেনে নেওয়া হয় তাহলে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের চেয়েও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন তারা। কিন্তু কী ধরনের কর্মসূচি আসতে পারে জানতে চাইলে কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি।

এদিকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গত কয়েকদিন দেশের বাইরে থাকায় ৬ মার্চ রবিবার বেতন-বৈষম্য নিরসন সংক্রান্ত পুনর্গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির সভার দিন নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু এদিনও যদি বিষয়টির সুরাহা না হয় তাহলে আবারও কঠোর আন্দোলনে যেতে দ্বিধা করবেন না বলে জানিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. কাজী সাইফুদ্দীন।

তিনি বলেন, ‘আমরা তো আর এভাবে থাকতে পারি না। দাবি আদায় না হলে আবার কঠোর আন্দোলনের পক্ষেই কাজ করবো।’

গত আট মাস ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনে ১১ জানুয়ারি থেকে লাগাতার কর্মবিরতি পালন শুরু করেন ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। ১৮ জানুয়ারি গণভবনে পিঠা উৎসবে ডেকে শিক্ষক ফেডারেশনের নেতাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরদিন ১৯ জানুয়ারি থেকে লাগাতার কর্মবিরতি স্থগিত করেন শিক্ষকরা।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের এক মাসেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও দাবি পূরণ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. অজিত কুমার মজুমদার।

তিনি বলেন, সর্বশেষ মিটিংয়ে মোটামুটি আমাদের সিদ্ধান্ত হয়েই রয়েছে। ৬ তারিখে দাবি বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া না পেলে আবার কঠোর আন্দোলনে যাবো। তবে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আমরা এখনও আশা করি সরকার দাবি মেনে নেবে।

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির এক নেতা বলেন, মর্যাদার প্রশ্নে শিক্ষকদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। শিক্ষকদের এবার মানানো কঠিন হয়ে যাবে। তবে এখনও আমরা প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে আছি। আমরা আশাবাদী প্রধানমন্ত্রী একটা ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবেন।

তিনি বলেন, শোনা যাচ্ছে ঢাকা বিশ্বদ্যালয় ও বুয়েটের শিক্ষকদের আলাদা সম্মান দেবে সরকার। এটা হলে আমরা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় মিলে আন্দোলন গড়ে তুলবো। 

অষ্টম বেতন কাঠামোতে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিল করায় শিক্ষকদের উচ্চতর স্কেলে যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি অধ্যাপকদের পদ ‘অবনমন’ হয়েছে বলে অভিযোগ শিক্ষকদের।

আগের সপ্তম বেতন কাঠামোতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা গ্রেড-১ থেকে গ্রেড-৩ এ উন্নীত হওয়াসহ যে সুযোগ-সুবিধা পেয়ে আসতেন তা বহাল রাখা, গ্রেড-১ থেকে কিছু সংখ্যক শিক্ষককে সিনিয়র সচিবের পদমর্যাদা (সুপার গ্রেড) দেওয়ার জন্য আন্দোলন করছিলেন।

শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন বলছে, আমরা বার বার সংশ্লিষ্ট মহলকে সময় দিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ ও সম্মানজনক সমাধানের প্রত্যাশায় রয়েছি। শিক্ষকতার মান আরও উন্নত করার জন্য আমরা বিভিন্ন পর্যায়ে পদায়নের ক্ষেত্রে গবেষণা প্রবন্ধের সংখ্যা বৃদ্ধির মতো যৌক্তিক বিষয়ও মেনে নিতে প্রস্তুত। ‘প্রয়োজনে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে পদায়নের ক্ষেত্রে সমন্বিত ও একক নীতিমালা গ্রহণ করতেও ফেডারেশনের আপত্তি নেই।’ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব ও আশ্বাসের প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলেও জানান তারা।

/আরএআর /এএইচ/